মেমারি:-পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারি-২ ব্লকের সাতগেছিয়া ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত খোরদ গ্রামে অবৈধভাবে বাঁকা নদীর চড় থেকে মাটি কাটার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, একটি পাইলিং প্রকল্পের কাজে ব্যবহারের জন্য স্থানীয় এক ঠিকাদার গত দু’দিন ধরে নদীর ধারের জমি থেকে মাটি কাটছিলেন। তবে জমির মালিককে না জানিয়েই এই কাজ করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খোরদ গ্রামে একটি নির্মাণ প্রকল্পের পাইলিংয়ের কাজের বরাত পেয়েছেন এক ঠিকাদার। সেই কাজের জন্য বিপুল পরিমাণ মাটির প্রয়োজন হওয়ায় বাঁকা নদীর চড় সংলগ্ন এলাকা থেকে মাটি তোলা শুরু হয়। বিষয়টি মেমারি-২ ব্লকের বড় পলাশন ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন বোসতেপোতা গ্রামের বাসিন্দা তথা জমির মালিক সুমন মল্লিকের কানে পৌঁছায়। খবর পেয়ে সুমন মল্লিক কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্থানীয় কয়েকজন খোরদ গ্রামের বাসিন্দার সঙ্গে তাঁর বচসা শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সাতগেছিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মঙ্গলবার মাটি কাটার কাজ বন্ধ করে দেয়। পুলিশের হস্তক্ষেপে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। জমির মালিক সুমন মল্লিক সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাকে না জানিয়ে আমার জমি থেকে কেন মাটি কাটা হল, তার জবাব চাই। আমার জমিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে।” তিনি দাবি করেন, জমির ক্ষতি হয়েছে এবং প্রশাসনের কাছে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, নদীর চড় ও সংলগ্ন এলাকায় নিয়ম না মেনে মাটি কাটার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে, যার ফলে পরিবেশ ও কৃষিজমির ক্ষতি হচ্ছে। ঘটনার পর প্রশাসনের ভূমিকা এবং মাটি কাটার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রশাসন যেন দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করে। বর্তমানে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।












