কলকাতা, ১৭ জুন: দীর্ঘদিন মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকার পর অবশেষে সমাজের মূলস্রোতে ফিরলেন প্রাক্তন মহিলা মাওবাদী পুষ্পা ওরফে শকুন্তলা। বুধবার কলকাতায় নগরপালের হাতে নিজের আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০১ সালে সাংস্কৃতিক শাখার সদস্য হিসেবে মাওবাদী সংগঠনে যোগ দেন পুষ্পা। পরবর্তীকালে তিনি ঝাড়খণ্ড-ওড়িশা সীমান্ত এলাকায় সংগঠনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পরে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকাতেও মাওবাদী কার্যকলাপ পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর বাড়ি ঝাড়গ্রাম জেলার বেলপাহাড়ি এলাকার মেচুয়া গ্রামে।
চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি তিনি মাওবাদী কার্যকলাপ ত্যাগ করে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। বুধবার কলকাতায় আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র জমা দেওয়ার পর তিনি জানান, সরকারের পুনর্বাসন প্রকল্প এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগের আশ্বাসই তাঁকে এই সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করেছে। পুষ্পার দাবি, সরকার তাঁর বাসস্থান ও জীবিকার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছে। সেই আশ্বাসে ভরসা রেখেই তিনি নতুন জীবন শুরু করার পথে এগিয়ে এসেছেন। দীর্ঘদিনের সশস্ত্র জীবনের পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনই এখন তাঁর লক্ষ্য।
এদিন তিনি এখনও যারা মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, তাঁদের প্রতিও আহ্বান জানান। পুষ্পার কথায়, “অস্ত্রের পথ ছেড়ে সমাজের মূলধারায় ফিরে আসুন। শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক জীবনের কোনও বিকল্প নেই”। প্রশাসনের মতে, এই আত্মসমর্পণ জঙ্গলমহল ও সংলগ্ন এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। পাশাপাশি, সরকারের পুনর্বাসন নীতির উপর আস্থা রেখে আরও অনেক পথভ্রষ্ট যুবক-যুবতী স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।








