তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় আসামি শিবনাথ হেমরমকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা দিল বর্ধমানের পকসো আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সরল কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর এই মামলায় রায় ঘোষণা করে আদালত। ঘটনার সূত্রপাত হয় তিন বছর বয়সি ওই শিশুকে ঘিরে। মায়ের সঙ্গে রায়নার এক আত্মীয়ের বাড়িতে এসেছিল শিশুটি। সন্ধ্যার সময় বাড়ির বাইরে খেলতে গিয়ে আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যায় সে। পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় বাসিন্দারা শিশুটির খোঁজ শুরু করেন।

সেই সময় জানা যায়, এলাকার বাসিন্দা শিবনাথ হেমরমকে ওই শিশুকে কোলে নিয়ে স্থানীয় চাষের জমির দিকে যেতে দেখা গিয়েছিল। এই সূত্র ধরে তল্লাশি চালিয়ে চাষের জমি থেকে গুরুতর জখম অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে তার চিকিৎসার জন্য কলকাতায় পাঠানো হয়। ঘটনার পর রায়না থানায় পকসো আইনে মামলা রুজু করা হয়। মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন রায়না থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক রামপদ ঘোষ, যিনি বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত। তদন্তে অভিযুক্ত শিবনাথ হেমরমকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে মামলাটি বিচারের জন্য আদালতে পাঠানো হয়।
দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পর মঙ্গলবার বর্ধমান পকসো আদালত শিবনাথ হেমরমকে দোষী সাব্যস্ত করে। পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারায় তাঁকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা জরিমানার সাজা শোনানো হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সরল কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মামলাটি আদালতে পরিচালনা করেন সরকারি আইনজীবী শর্মিষ্ঠা সামন্ত।








