নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব বর্ধমান | ২২ সেপ্টেম্বর- দুর্গাপুজোর নতুন জামাকাপড় কেনার জন্য বোনকে টাকা দিতে শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন দাদা। কিন্তু সেখানে গিয়ে বোনের রক্তাক্ত নিথর দেহ দেখতে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পূর্ব বর্ধমানের নাদনঘাট থানার বাঘাডাঙা গ্রামে। মৃতার নাম পাপিয়া মণ্ডল (৩৯)। পরিবারের অভিযোগ, তাঁর মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। মাথায় আঘাতের চিহ্ন এবং গলায় কালশিটে দাগ দেখে তাঁদের সন্দেহ, তাঁকে খুন করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই পাপিয়ার স্বামীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১২ সালে বাঘাডাঙার বাসিন্দা বিপ্লব মণ্ডলের সঙ্গে পাপিয়ার বিয়ে হয়। তাঁদের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। বিপ্লব টোটো চালালেও নিয়মিত কাজ করতেন না বলে অভিযোগ। সংসারের হাল ধরতে পাপিয়া শাড়িতে মাড় দেওয়ার কাজ করতেন। মৃতার বাপের বাড়ির দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতনের শিকার ছিলেন। রবিবার বিকেলে পুজোর কেনাকাটার জন্য টাকা দিতে বোনের বাড়িতে যান দাদা অসীম কুমার মণ্ডল। তিনি জানান, বহুক্ষণ ডাকাডাকির পরও কোনও সাড়া না পেয়ে সন্দেহ হয়। পরে পরিবারের এক সদস্যকে নিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকতেই বারান্দায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন পাপিয়াকে। ঘটনাস্থলের মেঝেতেও রক্তের দাগ দেখতে পান তিনি।
অসীম মণ্ডল জানান, দ্রুত বোনকে উদ্ধার করে কালনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপর নাদনঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। অভিযোগে বোনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর পাশাপাশি ভগ্নিপতির নিখোঁজ থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।










