নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান, ৭ জুলাই: মহারাজাধিরাজ উদয়চাঁদ মহিলা কলেজের ইতিহাস বিভাগ ও অভ্যন্তরীণ গুণমান নিশ্চিতকরণ কোষের উদ্যোগে এবং হিন্দি বিশ্ববিদ্যালয়, হাওড়ার সহযোগিতায় মঙ্গলবার থেকে শুরু হল দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সেমিনার।

‘ঔপনিবেশিক ভারতে সাহিত্য ও জাতীয় চেতনার বয়ান: ‘বন্দে মাতরম্’-এর দেড়শো বছর উদ্যাপন’ শীর্ষক এই সেমিনার চলবে ৭ ও ৮ জুলাই। ভারত সরকারের শিক্ষা মন্ত্রকের অধীন ভারতীয় সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদের পূর্বাঞ্চলীয় কেন্দ্র, কলকাতার পৃষ্ঠপোষকতায় কলেজের এ.পি.জে. আব্দুল কালাম অডিটোরিয়ামে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শঙ্কর কুমার নাথ, কলেজের অধ্যক্ষা ড. আশরাফি খাতুন, বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ অধ্যাপক প্রজিত কুমার পালিত, অধ্যাপক অপরাজিতা ধর, মরিশাসের ড. গীরজনন্দসিং বিসেসুর, ড. নিশা ঠাকুর, ড. হেমন্ত সাহা-সহ দেশ-বিদেশের বহু শিক্ষাবিদ, গবেষক ও বিশিষ্ট অতিথি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘বন্দে মাতরম্’ পরিবেশন, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, অতিথি সংবর্ধনা এবং সেমিনারের গবেষণাপত্রের সারসংকলন প্রকাশের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

সেমিনারের আহ্বায়ক ড. ইন্দ্রজিৎ যাদব জানান, ঔপনিবেশিক ভারতের সাহিত্য, জাতীয়তাবাদ, স্বাধীনতা আন্দোলন এবং ‘বন্দে মাতরম্’-এর ঐতিহাসিক গুরুত্বকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্লেষণ করাই এই আন্তর্জাতিক সেমিনারের প্রধান লক্ষ্য। তাঁর বক্তব্য, বাংলা, হিন্দি, উর্দু, ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভারতীয় ভাষার সাহিত্য জাতীয় চেতনা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সেই ইতিহাস ও সাহিত্যিক অবদানকে সামনে রেখে বিভিন্ন পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন, কারিগরি অধিবেশন এবং গবেষণাপত্র উপস্থাপনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারত, নেপাল ও মরিশাস-সহ একাধিক দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক, গবেষক এবং শিক্ষার্থীরা এই সেমিনারে অংশ নিচ্ছেন। প্রত্যক্ষ উপস্থিতির পাশাপাশি অনলাইন মাধ্যমেও বহু গবেষক যুক্ত হয়েছেন। দুই দিনে মোট আশিটিরও বেশি গবেষণাপত্র উপস্থাপিত হবে, যা সাহিত্য, ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং জাতীয় চেতনা বিষয়ক গবেষণাকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আয়োজকরা।
আহ্বায়ক ড. ইন্দ্রজিৎ যাদবের মতে, এই আন্তর্জাতিক সেমিনার শুধু গবেষকদের মধ্যে মতবিনিময়ের ক্ষেত্রই তৈরি করবে না, ভবিষ্যতে সাহিত্য, ইতিহাস ও জাতীয় চেতনা নিয়ে নতুন গবেষণার পথও উন্মুক্ত করবে। দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরেও এই ধরনের একাডেমিক উদ্যোগ জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।











