রায়না:- ঐতিহ্য, গৌরব ও উৎসবের আবহে পূর্ব বর্ধমানের রায়না-১ ব্লকের নাড়ুগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৩৫তম প্রতিষ্ঠা দিবস জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হল মঙ্গলবার, ৩০ জুন। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষিকা, প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক এবং এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে দিনটি হয়ে ওঠে স্মরণীয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রায়না বিধানসভার বিধায়ক সুভাষ পাত্র, ভারতীয় জনতা পার্টির রাজ্য নেতা তথা আটিস্ট ফ্রোরাম এর সদস্য রাজ দে । এছাড়াও বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, পরিচালন সমিতির সদস্য, শিক্ষানুরাগী ও বহু প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা, পুরস্কার বিতরণ এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক সুভাষ পাত্র বলেন, “নাড়ুগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো ও সার্বিক উন্নয়ন সেভাবে হয়নি।
গত ১৫ বছরে রাজ্যের স্কুল, কলেজ ও হাসপাতালের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হয়েছে। তোলাবাজির রাজনীতির কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিও উপেক্ষিত হয়েছে। অনেক নেতা কখনও স্কুলের খোঁজই নেননি। বর্তমানে বিদ্যালয়ের অবস্থা যথেষ্ট করুণ। আগামী দিনে এই বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করব এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করব”। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অসীম বিশ্বাস জানান, “প্রতিবছর ৩০ জুন বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করা হয়। সারা বছর ধরে ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও অন্যান্য ইভেন্টে যারা সাফল্য অর্জন করে, তাদের পুরস্কার এই দিনেই প্রদান করা হয়। পাশাপাশি মেধাবী ও কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের আর্থিক পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের আরও উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হয়”।
দিনভর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবের পরিবেশ। ছাত্র-ছাত্রীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপস্থিত সকলের মন জয় করে। বিদ্যালয়ের দীর্ঘ ১৩৫ বছরের শিক্ষার ঐতিহ্য ও সমাজ গঠনে অবদানের কথা স্মরণ করে বক্তারা ভবিষ্যতেও এই প্রতিষ্ঠানকে আরও সমৃদ্ধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ১৩৫ বছরের গৌরবময় পথচলাকে স্মরণ করে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, প্রাক্তনীরা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা একসঙ্গে প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন করেন। শিক্ষার মানোন্নয়ন, পরিকাঠামোর উন্নতি এবং আগামী প্রজন্মকে আরও উন্নত শিক্ষার পরিবেশ উপহার দেওয়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়েই শেষ হয় এদিনের অনুষ্ঠান।











