রায়না, পূর্ব বর্ধমান: পরমহংস শ্রী নিগমানন্দ সরস্বতী মহারাজের আদর্শ ও মানবকল্যাণের বাণীকে সামনে রেখে পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না ব্লকের নন্দনপুর এলাকায় অবস্থিত রামেশ্বরম রাইস মিলে অনুষ্ঠিত হলো ১০৮তম ধর্মসভা। ধর্মীয় আবহে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সকাল থেকেই ভক্ত ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমাগম লক্ষ্য করা যায়।

এই মহতী ধর্মসভার প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমৎ স্বামী রাজেশানন্দ সরস্বতী মহারাজ। তিনি তাঁর বক্তব্যে পরমহংস শ্রী নিগমানন্দ সরস্বতী মহারাজের জীবনাদর্শ, মানবসেবা, ভক্তি ও আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি বর্তমান সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সম্প্রীতির প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
সমগ্র অনুষ্ঠানের পরিচালনায় ছিল নন্দনপুর নিগমানন্দ সরস্বত সংঘ এবং দেবাশীষ সামন্তের উদ্যোগে রামেশ্বরম ফুড প্রোডাক্ট প্রাইভেট লিমিটেড। সারাদিন ধরে ধর্মীয় আলোচনা, ভজন-সঙ্গীত ও হরিনাম সংকীর্তনের মধ্য দিয়ে ভক্তিমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল অন্নভোগ বিতরণ। সভা শেষে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের জন্য মহাপ্রসাদের আয়োজন করা হয়। জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকলেই এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে এক অনন্য সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

আয়োজকদের মতে, এই ধর্মসভা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, মানবিকতা ও আধ্যাত্মিক চেতনা জাগ্রত করার এক মহৎ প্রয়াস। তাঁদের বিশ্বাস, নন্দনপুর ও উচালন অঞ্চলে এই ধর্মীয় উদ্যোগ আগামী দিনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে এবং পরমহংস শ্রী নিগমানন্দ সরস্বতী মহারাজের আদর্শ আরও বিস্তৃতভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেবে।
ধর্মপ্রাণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দিনভর এই অনুষ্ঠান পরিণত হয় এক আধ্যাত্মিক মিলনমেলায়, যেখানে ধর্মের মূল বাণী হিসেবে উঠে আসে— মানবসেবা, প্রেম ও সম্প্রীতি।











