আবহাওয়া দক্ষিণবঙ্গ শিক্ষা লাইফ স্টাইল স্বাস্থ্য ভ্রমন ধর্ম কৃষি কাজ ক্রাইম

বারুইপুর কান্ডে যে ভাবে তদন্ত এগিয়েছে তাতে নির্যাতিতার পরিবার সন্তুষ্ট বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারুইপুরে

krishna Saha

Published :

WhatsApp Channel Join Now

উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়,বারুইপুর :
বারুইপুরের সূর্যপুরে এক নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় যে ভাবে তদন্ত এগিয়েছে, তাতে নির্যাতিতার পরিবার সন্তুষ্ট বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মঙ্গলবার বারুইপুরে পুলিশ সুপারের অফিসে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পরেই এ কথা বলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।তাছাড়া ধর্ষণ খুনের ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভের সময়ে যে ভাবে ইন্দ্রজিত মন্ডল নামে এক যুবককে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে তার ও নিন্দা করেছেন শুভেন্দু।

গণপিটুনিতে নিহতও নির্দোষ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন,ইতিমধ্যে ২০০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। গুন্ডামি বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।মঙ্গলবার দুপুরে বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপারের অফিসে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজিপি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা আই জি প্রেসিডেন্সী রেঞ্জের কংকর প্রসাদ বারুই,বারুইপুর পুলিশ সুপার। সূত্রের খবর, ধর্ষণ-খুনের ঘটনার তদন্ত কত দূর এগিয়েছে, প্রশাসনের তরফে কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে এখনও পর্যন্ত, সে ব্যাপারে নির্যাতিতার পরিবারকে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

পরে বারুইপুরে গণপিটুনিতে নিহতের পরিবারের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন তিনি।দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পরে বাইরে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে নির্যাতিতার পরিবারকে জানানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে আমার মনে হয়েছে, তারা সন্তুষ্ট। গণপিটুনিতে যে যুবক নিহত হয়েছেন, তাঁর পরিবারের সঙ্গেও কথা বলেছি।

ওই যুবক নির্দোষ।’ শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ থাকার পরে রবিবার সকালে বাড়ির অদূরে সূর্যপুর রেল লাইনের ধারের পুকুর থেকে নির্যাতিতা কিশোরীর দেহ উদ্ধার হয়। তার পরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর, রেললাইন উপড়ে ফেলার মতন ঘটনার অভিযোগ ওঠে।এই বিক্ষোভের মাঝেই ইন্দ্রজিত মন্ডল নামে এক যুবককে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বিক্ষোভে যাঁরা উস্কানি দিয়েছেন, তাঁরা আদতে দেশদ্রোহী।

See also  সোনারপুরে বিজেপির হেভিওয়েট নেতা ও পঞ্চায়েত সদস্য যোগ দিলেন বিধায়কের হাত ধরে তৃনমূল কংগ্রেসে

তাঁদের অনেকেই বিরোধী দলের লোক বলেও জানিয়েছেন শুভেন্দু।তিনি বলেন,‘পিছন থেকে যারা উস্কানি দিয়েছে, তাদের কেউ কিছু দিন আগে ক্ষমতা থেকে সরে গিয়েছে, কেউ আবার শূন্য থেকে এক হয়েছে।এরা অ্যান্টিন্যাশনাল ফোর্স। সকলকে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রত্যেকের নাম খুনের মামলায় জুড়বে।

পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি,যারা হুলিগ্যানিজ়ম করেছে, সকলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে হবে। যারা উস্কানি দিয়েছে, কাউকে ছাড়া হবে না।’আরএই ধরনের ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে না হয়, পুলিশকে তা নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বারুইপুর কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত যা যা প্রশাসনিক পদক্ষেপ হয়েছে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তার বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে ডিজির কাছে।

শুভেন্দু বলেন, ‘২ সপ্তাহ পরে আমি আবার আসব। দুই পরিবারের সঙ্গে আবার দেখা করব। যেখানে ধর্ষণ-খুনের ঘটনা ঘটেছে,তার কাছে পুলিশ আউটপোস্ট তৈরি হবে। পুলিশ যা করার করছে। এসপি আইজির সঙ্গে কথা বলেছি। সরকার যা করবে, আপনারা জানতে পারবেন।’ বারুইপুরে বিক্ষোভের সময়ে তিন পুলিশ কর্মী জখম হয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁরা বাইপাশের ধারে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের সাথে ও দেখা করবেন শুভেন্দু।

নাবালিকা খুন এবং ধর্ষণ মামলায় মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত তিন জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। ধৃতদের নাম প্রভাস মণ্ডল, দিবাকর সর্দার ও আনন্দ সর্দার। আরও এক অভিযুক্তের নাম তদন্তে উঠে এসেছে। যদিও তার এখনও নাগাল পাওয়া যায়নি বলেই খবর পুলিশ সূত্রে। প্রসঙ্গত, নাবালিকার খোঁজ না মেলায় প্রথমে অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রভাসকে আটক করে।

তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে রবিবার সকালে পুকুর থেকে নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। এর পরে তদন্তে নেমে দিবাকর এবং পরে আনন্দকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, ধৃত প্রভাস প্রাথমিক জেরায় দিবাকর, আনন্দ ছাড়াও আরও দু’জনের নাম করেছিলেন। এই ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই ৬ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে এই ঘটনা যে পূর্ব পরিকল্পিত, তা এক প্রকার নিশ্চিত পুলিশ।

See also  অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে এমন সন্দেহে স্ত্রীর গলায় বঁটির কোপ মারলেন স্বামী

তদন্তকারীদের অনুমান, পরিকল্পনামাফিক ধৃত প্রভাস নাবালিকাকে কোনও ভাবে ভুলিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। এর পরে চার অভিযুক্তের কাছে নাবালিকাকে তুলে দেন তিনি।ধৃত তিনজনকে নিজেদের হেফাজতে রেখে তদন্তের আরও তথ্য সংগ্রহ করতে চাইছে পুলিশ।

krishna Saha

আমার নাম কৃষ্ণ কুমার সাহা, আমি ফুল টাইম সাংবাদিকতা করি।গত ৮ বছর ধরে এই পেশায় আছি