নদীয়া :-ছোট থেকেই ঠাকুর তৈরির প্রতি আকৃষ্ট। আর সেই টান থেকেই পাঁচ বছরেই হাতে খড়ি। তবে কারোর কাছ থেকে শিখে নয়, পালবাড়ি র ঠাকুর তৈরি দেখেই ধীরে ধীরে নিজেই শুরু করলেন প্রতিমা বানাতে। দূর্গা পূজার হাতেগোনা আর কয়েকদিন বাকি। এবার নিজের বাড়িতেই তিন ফুটের মহিষমর্দিনী তৈরি করে তাক লাগালেন নদীয়ার বাদকুল্লার কলেজ পড়ুয়া। জানা যায় তাহেরপুর থানার অন্তর্গত বাদকুল্লার কলেজ ছাত্র তৃষানু রায়। ছোট থেকেই ঠাকুর তৈরির প্রতি একটা অন্যরকম টান ছিল তার। সেই কারণে বিভিন্ন পালবাড়িতে গিয়ে নিজেই দাঁড়িয়ে থেকে মৃৎশিল্পীরা কিভাবে ঠাকুর তৈরি করছে সেটা নজর রাখত।

পরবর্তীকালে বাড়িতে এসে কাদা দিয়ে সেই প্রচেষ্টায় চালাতো সে। সেই প্রচেষ্টায় আস্তে আস্তে সফলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যায় তাকে। এর আগে অনেক ধরনের ঠাকুর তৈরি করে বিভিন্ন পুজোয় স্থানীয় ক্লাবে তিনি দিতেন। তবে এই প্রথম তিন ফুটের মহিষমর্দিনী তৈরি করলেন। মূলত তার বিভিন্ন ধরনের ঠাকুর তৈরি কারুকার্য দেখে অনলাইনের মাধ্যমেই রানাঘাট থেকে কোন এক পরিবার তিন ফুটের ঠাকুর তৈরি কথা বলেন। সেই মতো তিনি প্রায় তিন মাস আগে কাজ শুরু করেন। নিজেই রং মাটি সংগ্রহ করে ঠাকুর তৈরি করেন। পরবর্তীকালে তুলি টানে তার সম্পূর্ণ রূপ দান করেন।
এ বিষয়ে রানাঘাট তৃতীয় বর্ষের কলেজ ছাত্র তথা শিল্পী তৃষানু রায় বলেন, ছোট থেকেই আমার ঠাকুর তৈরির প্রতি আলাদা টানছিল। প্রথমে বাড়িতে কাদা তৈরি করে চেষ্টা করতাম। তবে আমি কারো কাছ থেকে ঠাকুর তৈরি শিখিনি। চোখে দেখা আর নিজের চেষ্টা দুই কারণে আমি সফলতা অর্জন করেছি। পড়াশোনার ফাঁকে যতটুকু সময় বের করতে পারতাম ততটুকু সময় ঠাকুর তৈরীর কাজে ব্যস্ত থাকতাম। আমার এই কাজে মা-বাবা যথেষ্ট সাহায্য করেছে। আমি আগামী দিনে অন্য পেশার সাথে থাকলেও ঠাকুর তৈরি করবো বলেই জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন এর আগেও লোককে সরস্বতী থেকে শুরু করে একাধিক ঠাকুর তৈরি করেছে। তবে দুর্গার আরেক রূপ মহিষমর্দিনী এই প্রথম তৈরি করলাম।
তৃষানু রায়ের মা ডলি রায় বলেন, ছোট থেকেই ছেলে কাদামাটি নিয়ে খেলতো এবং বিভিন্ন ধরনের মূর্তি তৈরি করার চেষ্টা করত। কখনো একটা পাখি তৈরি করত কখনো বা কোন মূর্তি তৈরি করত। এরপর আস্তে আস্তে ও নিজে থেকেই বিভিন্ন ধরনের ঠাকুর তৈরি করা শুরু করে। আমাদের ইচ্ছা ছিল ওকে আর্ট কলেজে ভর্তি করানোর। কিন্তু ওর বাবা চাষের কাজ করে যেটুকু সংসারে আয় হয় সেটুকু দিয়েই সংসার চালাতে হয় এবং ওর পড়াশোনার খরচ রয়েছে। সেই কারণে বাড়তি করে আর্ট কলেজে ভর্তি করানো হয়নি। তবে আমরাও ওকে সাহায্য করতাম। কারণ ওর যেটাতে ভালো লাগে সেটাতেই আমরা সমর্থন করতাম। আগামী দিনে অন্য প্রফেশনে যাওয়ার ইচ্ছা আছে তবে ঠাকুর তৈরির কাজ চালিয়ে যাবে।









