
বাজার দখলের অভিযোগ, সংকটে ঐতিহ্যবাহী খাস ধান—জিআই পরিচয়ের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন
নিজস্ব সংবাদদাতা: বড়ো খাস ধানের বাড়বাড়ন্তে ক্রমশ সমস্যায় পড়ছেন ঐতিহ্যবাহী খাস ধান চাষিরা। বাজারে বড়ো খাস ধানের সরবরাহ বাড়তে থাকায় খাস ধান অর্থাৎ খুশবু চালের চাহিদা ও দাম—দুই-ই কমছে বলে অভিযোগ চাষিদের। ফলে উৎপাদন খরচ তুলতে গিয়েও হিমশিম খেতে হচ্ছে বহু কৃষককে।
চাষিদের দাবি, বড়ো খাস ধান ধীরে ধীরে বাজার দখল করে নেওয়ায় আসল ও ঐতিহ্যবাহী খাস ধানের ক্রেতা কমে যাচ্ছে। আগে যে দামে খাস ধান বিক্রি করা যেত, বর্তমানে সেই দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এর ফলে চাষিদের মধ্যে লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে। পাশাপাশি আগামী দিনে অনেক কৃষক খাস ধানের চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন বলেও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কৃষকদের একাংশের অভিযোগ, বড়ো খাস ধানের অবাধ বাজারজাতকরণ ও বিক্রির ফলে ছোট ও ঐতিহ্যবাহী খাস ধানের বাজার মার খাচ্ছে। বাজারে প্রকৃত খাস ধান ও অন্য ধানের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট না থাকায় ক্রেতারাও বিভ্রান্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ।
জিআই পরিচয়ের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন
চাষিদের আরও অভিযোগ, খাস ধান অর্থাৎ খুশবু চালের ঐতিহ্য, স্বাতন্ত্র্য এবং জিআই পরিচয়ই যদি বাজারে সঠিকভাবে রক্ষা না করা হয়, তাহলে ধীরে ধীরে এই বিশেষ ধানের নিজস্ব পরিচিতি ও বাজারমূল্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিত এই পণ্যের জিআই পরিচয় ও স্বাতন্ত্র্য রক্ষায় যথাযথ নজরদারির দাবি তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
চাষিদের দাবি, খাস ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রকৃত খাস ধান চিহ্নিতকরণ, বাজারজাতকরণে স্বচ্ছতা এবং জিআই-সংক্রান্ত নিয়মকানুন কঠোরভাবে কার্যকর করা জরুরি। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর দ্রুত পদক্ষেপ না করলে ঐতিহ্যবাহী এই ধানের বাজার আরও সংকুচিত হতে পারে।
চাষিদের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বড়ো খাস ধানের দাপটে একসময়ের ঐতিহ্যবাহী ও মূল্যবান খাস ধানের বাজার কার্যত শেষ হয়ে যেতে পারে। হারিয়ে যেতে পারে খুশবু চালের স্বতন্ত্র পরিচয়ও।









