আবহাওয়া দক্ষিণবঙ্গ শিক্ষা লাইফ স্টাইল স্বাস্থ্য ভ্রমন ধর্ম কৃষি কাজ ক্রাইম

গণেশ পুজো থেকে দুর্গাপুজো—ভিনরাজ্যে যাচ্ছে পাণ্ডুয়ার পদ্ম, তবে দাম না মেলায় দুশ্চিন্তায় চাষিরা

krishna Saha

Published :

WhatsApp Channel Join Now

কৃষকসেতু বাংলা, পাণ্ডুয়া: গণেশ পুজো থেকে দুর্গাপুজো—পুজোর মরশুমে পাণ্ডুয়ার খন্যানের তাম্বাগ্রাম যেন পদ্ম ব্যবসার অন্যতম কেন্দ্র। এখান থেকে প্রতিদিন হায়দরাবাদ, চেন্নাই, মুম্বই, দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ট্রাকে ট্রাকে পদ্ম পাঠানো হচ্ছে। শুধু তাম্বাগ্রামই নয়, পোলবা ও বলাগড় এলাকা থেকেও পদ্ম আসে এই বাজারে। কলকাতার মল্লিকঘাট ফুল বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে এখানকার পদ্মের ব্যাপক চাহিদা।

জানা গেছে, প্রায় আড়াই হাজার বিঘা জমিতে পদ্ম চাষ হয় এই অঞ্চলে। দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা হিমঘরে পদ্ম সংরক্ষণ করেন। প্রতিদিন চাষিদের কাছ থেকে ফুল কিনে বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হয়। প্রতি বছর এই বাজারে কোটি টাকারও বেশি ব্যবসা হলেও, চলতি বছরে আবহাওয়ার প্রতিকূলতায় ফলন কম হওয়ায় এবং দাম না থাকায় চাষি ও ব্যবসায়ীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ।

১২ বিঘা জমিতে পদ্ম চাষ করা রাজেশ্বর বিশ্বাস বলেন, “আবহাওয়ার কারণে প্রত্যাশিত ফলন হয়নি। যে ফলন হয়েছে, তাতেও খরচ ওঠার আশা কম। কৃষি দপ্তর ও সরকারের কাছে আবেদন, পদ্ম চাষিদের দিকে নজর দেওয়া হোক। পাশাপাশি ফুলবাহী গাড়িগুলির চলাচলে সহযোগিতা করা হলে চাষিরা উপকৃত হবেন।” চাষি গুরুপদ মাঝি বলেন, “ছয় বিঘা জমিতে পদ্ম চাষ করি। এ বছর দাম নেই বললেই চলে। এখানকার পদ্ম হায়দরাবাদ, মুম্বই-সহ বিভিন্ন জায়গায় যায়। কিন্তু ন্যায্য দাম না পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে। সরকারের কাছে আবেদন, পদ্মের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা হোক।”

ব্যবসায়ী মন্টু দেবনাথ জানান, “এখান থেকেই দিল্লি, হায়দরাবাদ, মুম্বই-সহ বিভিন্ন রাজ্যে পদ্ম পাঠানো হয়। কিন্তু গণেশ চতুর্থীতেও বাজার ভালো হয়নি। বর্তমানে একটি পদ্ম দেড় থেকে দুই টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোটি টাকার ব্যবসার আশা থাকলেও এ বছর সেই সম্ভাবনা কম। সরকারের আরও সহযোগিতা প্রয়োজন।” আর এক ব্যবসায়ী অরুণ বিশ্বাস বলেন, “ফলন কম হলেও শ্রমিক নির্ভর এই চাষে বহু মানুষের রুজি-রোজগার জড়িয়ে রয়েছে। পদ্মের দাম যদি পাঁচ থেকে ছয় টাকার মধ্যে থাকে, তাহলে চাষি ও ব্যবসায়ী—উভয়েই লাভবান হবেন। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, পদ্মের একটি ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করা হোক।”

পাণ্ডুয়ার বিধায়ক তুষার মজুমদার বলেন, “আগের তুলনায় এখন পদ্ম চাষ অনেক বেড়েছে এবং বহু চাষি লাভের মুখ দেখছেন। আগে পুকুরে চাষ হলেও এখন জমিতেও পদ্ম চাষ হচ্ছে। এখানকার পদ্ম রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি ভিনরাজ্যেও যাচ্ছে। পদ্ম সংরক্ষণের জন্য হিমঘর তৈরির বিষয়টি নিয়েও আমরা উদ্যোগ নেব। আগামী দিনে যাতে চাষিরা আরও বেশি লাভের মুখ দেখতে পারেন, সেই দিকেও নজর রাখা হচ্ছে।”

krishna Saha

আমার নাম কৃষ্ণ কুমার সাহা, আমি ফুল টাইম সাংবাদিকতা করি।গত ১৪ বছর ধরে এই পেশায় আছি