
কোন্নগর, হুগলি: গাঁজার নেশা করতে গিয়ে বচসা, আর সেই বচসার জেরেই বন্ধুর হাতে খুন হতে হল এক যুবককে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির কোন্নগরের বাগখাল মিল মাঠ এলাকায়। ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করেছে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার গভীর রাতে কোন্নগরের বাগখাল এলাকার একটি মাঠ সংলগ্ন ঝোপের মধ্যে এক যুবকের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় উত্তরপাড়া থানার পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শ্রীরামপুর ওয়ালস হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মৃত যুবকের নাম মহঃ একলাখ আনসারী। পেশায় তিনি হাইড্রা গাড়ির চালক ছিলেন। পরিবারের দাবি, বৃহস্পতিবার থেকেই নতুন কাজে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু তার আগেই নির্মমভাবে খুন হতে হল তাঁকে।
মৃতের মা জানান, বুধবার বিকেলে একলাখকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় তার বন্ধু মহঃ ফরিয়াদ, যে পেশায় জেসিবি চালক। এরপর রাত গড়ালেও ছেলে বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। গভীর রাতে উত্তরপাড়া থানা থেকে ফোন করে জানানো হয়, একলাখকে খুন করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, বুধবার রাতে বাগখাল মিল মাঠ এলাকায় বসে একসঙ্গে গাঁজার নেশা করছিল একলাখ ও ফরিয়াদ। সেই সময় কোনও বিষয়কে কেন্দ্র করে দু’জনের মধ্যে তীব্র বচসা বাধে। অভিযোগ, উত্তেজনার বশে ফরিয়াদ তার কাছে থাকা একটি ধারালো ছুরি দিয়ে একলাখের বুকে আঘাত করে। গুরুতর জখম অবস্থায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় একলাখের।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তদন্তে নেমে দ্রুত অভিযুক্ত ফরিয়াদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের অনুমান, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় দু’জনের মধ্যে ঝামেলা থেকেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে।
মৃতের মা দাবি করেছেন, তাঁর ছেলে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক ছিল। তবে এলাকার কারও সঙ্গে তার কোনও শত্রুতা বা বিবাদ ছিল না। তাই বন্ধুদের মধ্যে নেশার আসরে হওয়া ঝামেলাই এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
বৃহস্পতিবার ধৃত অভিযুক্তকে শ্রীরামপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং খুনের পেছনে অন্য কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
একসঙ্গে নেশা, তারপর বচসা, আর শেষ পর্যন্ত বন্ধুর হাতেই বন্ধুর মৃত্যু— কোন্নগরের এই ঘটনায় শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে এলাকাজুড়ে।










