ব্রিটিশ রাজশক্তির শাসনকর্তৃত্ব থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৪৭ সালের ১৫ আগষ্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করে।কিন্তু খুব সহজে আসেনি এই স্বাধীনতা। দেশ মাতৃকার অনেক বীর সন্তানের আত্মবলিদান,ত্যাগ ও লড়াই আন্দেলনের ফলে মিলেছে এই স্বাধীনতা।
যে লড়াই আন্দোলনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে আছে পূর্ব বর্ধমান জেলার অন্যতম স্বাধীনতা সংগ্রামী দশরথি তা-র নাম । পরাধীন ভারতে দাশরথি তা-র নেতৃত্বে সংঘটিত হয়েছিল ইংরেজ পরিচালিত জেলার জামালপুর ও রায়না থানার দখল নেওয়া এবং জামালপুর থানায় আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা।দাশরথি তা-র নেতৃত্বে হওয়া সে দিনের সেই বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের কথা আজও জামালপুরের অনেক প্রবীণদের স্মৃতিতে বন্দি রয়েছে।

দশরথি তা ১৩১৮ বঙ্গাব্দের (১৯১১ খ্রীষ্টাব্দ) ২৩ কার্তিক অবিভক্ত বর্ধমান জেলার রায়না থানার
ধামাস গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।ভারতের পরাধীনতা ব্যাথিত করতো কৃষক পরিবারের স্বশিক্ষিত সন্তান দশরথি তা কে।১৯৩০ সালে কংগ্রেসে যোগ দিয়ে তিনি লবণ সত্যাগ্রহ আন্দোলনে যোগদেন।পরবর্তী সময়ে ১৯৪২ সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলনে যোগ দিয়ে তিনি ইংরেজ সিপাহি পরিচালিত রায়না ও জামালপুর থানা দখল এবং জামালপুর থানায় আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনায় নেতৃত্ব দেন।
পাশাপাশি তিনি ব্রিটিশদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত করার জন্য বি.ডি.আর(বাঁকুড়া- দামোদর রেলওয়ে) রেললাইন উপড়ে ফেলে দেন।দাশরথি তা কে জীবিত বা মৃত অবস্থায় ধরার জন্য ১০ হাজার টাকা আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছিলো তদানিন্তন ইংরেজ প্রশাসন।মেদিনীপুরের তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকারের আদলে বর্ধমানেও সমান্তরাল সরকার গড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি।দেশের স্বাধীনতার জন্য এহেন লড়াই আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি বেশ কয়েকবার কারাবরণ করেন।

জামালপুরের বত্রিশ বিঘা গ্রামে বসবাস করেন ১০৪ বয়সী প্রবীণ শেখ ইব্রাহিম। তিনি পরাধীন ভারতে ইংরেজ শাসন কাল দেখেছেন।তারই সাথে তিনি দেখেছেন ভারতকে স্বাধীনতার জন্য গান্ধীজী সহ বাাংলার বহু বিপ্লবীর লড়াই আন্দোলন।তিনি বলেন,ইংরেজদের ভারত ছাড়া করতে১৯৪২ সালে গান্ধীজী “করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে“ স্লোগান তোলেন।
এর দুই-এক বছরের মধ্যে জামালপুর থানা পোড়ে।
স্বাধীনতা সংগ্রামী দশরথি তা এর নেতৃত্বে সেই সময় জামালপুর থানা পোড়ানো হয়েছিল। এই ঘটনায় কয়েক বছর বাদে ভারত স্বাধীন হয় বলে শেখ ইব্রাহিম জানিয়েছেন।
স্বাধীনতা আন্দোলন সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড জনসমক্ষে তুলে ধরার জন্য দাশরথি তা ১৯৩৬ সালে বর্ধমান জেলায় প্রথম ’দামোদর’ নামে বাংলা সাপ্তাহিক রত্রিকা প্রকাশ করেন। ব্রিটিশ বিরোধী লেখাও এই পত্রিকায় প্রকাশ হত।দশরথি তা আত্মগোপন করে থাকা কালে তাঁর স্ত্রী তথা স্বাধীনতা সংগ্রামী রমা তা একা পত্রিকাটি চালাতেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার
পর পত্রিকাটি দৈনিক পত্রিকার রুপ নেয়।স্বাধীন ভারতে ১৯৫১ সালে কিষাণ মজদুর প্রজা পার্টির টিকিটে এবং ১৯৫৭ ও ১৯৬৭ সালে প্রজা সমাজতান্ত্রিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে দশরথি তা রায়না বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হন। ১৯৬৭ সালে তিনি প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষের পিডিএফ মন্ত্রিসভায় কৃষিমন্ত্রী হয়েছিলেন। দামোদর বন্যা প্রতিরোধ ও ক্যানাল আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।১৩৮৭ বঙ্গাব্দের(১৯৮০ খ্রীষ্টাব্দ)১৪ বৈশাখ দাশরথি তা প্রয়াত হন।











