মেমারি :-গাছ কাটার অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের চাঞ্চল্য বোহার জাকরা গ্রামে। এবার অভিযোগ, দিনের আলোয় একের পর এক গাছের ডাল কেটে তা বিক্রির চেষ্টা চলছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আগের দিনই এলাকায় একসঙ্গে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছিল। তার ঠিক পরের দিন ফের গাছের ডাল কাটার ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে—এ কি সত্যিই প্রয়োজনীয় ডাল ছাঁটাই, নাকি বড় গাছ কাটার আগে ধাপে ধাপে গাছগুলিকে দুর্বল করে দেওয়ার পরিকল্পনা?

ঘটনাটি পূর্ব বর্ধমানের বোহার-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত জাকরা গ্রামের ২৭২ নম্বর বুথ এলাকার। স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধভাবে গাছের ডাল কেটে তা বিক্রির চেষ্টা চলছিল। কালিকাপুর স্টোরের সামনে ডাল কাটার সময় কয়েকজনকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন স্থানীয় বাসিন্দারা—এমনটাই দাবি তাঁদের।
স্থানীয় বাসিন্দা আসাদ শেখের অভিযোগ, স্থানীয় বিজেপি বুথ সভাপতি সত্য কর্মকারের মদতে এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর নাম ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার গাছের ডাল ও কাঠ কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, গাছের গুঁড়িতে পোকা ধরেছে এবং গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে—এই কারণ দেখিয়ে বাইরে থেকে লোক এনে ডাল কাটানো হচ্ছিল। স্থানীয়দের বাধা সত্ত্বেও ডাল কাটার কাজ চলছিল বলেও অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও গুরুতর অভিযোগ, প্রথমে গাছের একের পর এক ডাল কেটে গাছকে দুর্বল করে দেওয়া হয়। এরপর গাছ শুকিয়ে গেলে বা দুর্বল হয়ে পড়লে সুযোগ বুঝে রাতের অন্ধকারে সম্পূর্ণ গাছ কেটে তা বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এদিকে, মেদিনীপুর থেকে গাছ কাটতে আসা আমির খান জানান, পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে তাঁদের সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সঙ্গে কথা বলতে বলা হয়েছিল। এরপর স্থানীয় এক দলীয় নেতার মৌখিক আশ্বাসে প্রায় পাঁচ হাজার টাকায় ডাল কাটার চুক্তি হয় বলে দাবি তাঁর। তবে চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, তাঁদের কাছে গাছ কাটার বা ডাল ছাঁটাইয়ের কোনও লিখিত অনুমতিপত্র ছিল না। বনদপ্তরের অনুমতিও তাঁদের কাছে ছিল না বলেই তিনি জানান।
উল্লেখ্য, লাক্ষা চাষের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ে এবং সঠিক পদ্ধতিতে উপযুক্ত ডাল ছাঁটাই করা হলে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সবসময় ক্ষতি হয় না। লাক্ষা থেকে আলতা, কাপড়ের রং, বিভিন্ন প্রসাধনী উপাদান, লাক্ষার চুড়ি এবং শেল্যাকের মতো নানা পণ্য তৈরি হয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—জাকরা গ্রামের এই গাছগুলির ক্ষেত্রে কি সত্যিই সেই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে ডাল ছাঁটাই করা হচ্ছিল, নাকি অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল?
একদিকে মঞ্চে পরিবেশ রক্ষার বার্তা, বৃক্ষরোপণের প্রচার—অন্যদিকে মাঠে একের পর এক গাছ কাটা এবং ডাল কাটার অভিযোগ। তাহলে গাছ বাঁচানোর সেই প্রতিশ্রুতি কি শুধুই মঞ্চের কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ?
প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি গাছ কাটার অভিযোগের পর ফের ডাল কাটার ঘটনায় এখন উত্তাল জাকরা। স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে কার নির্দেশে, কার মদতে এবং কী অনুমতিতে গাছের ডাল কাটা হচ্ছিল, তা প্রকাশ্যে আনুক প্রশাসন।
গাছ বাঁচানোর কথা বলা হয় মঞ্চে, আর গাছ কাটার অভিযোগ ওঠে মাঠে—বোহার জাকরায় এই দুই ছবির মাঝেই এখন খুঁজছে এলাকাবাসী আসল সত্য।











