খণ্ডঘোষ :- বিপ্লবী শহীদ ভগৎ সিংয়ের ১২০তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে সোমবার মর্যাদা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় বিপ্লবী বটুকেশ্বর দত্তের জন্মভিটায় অর্থাৎ খণ্ডঘোষের ওয়ারী গ্রামে। স্বাধীনতা আন্দোলনের দুই অমর বিপ্লবীর স্মৃতিবিজড়িত এই পুণ্যভূমিতে ভগৎ সিংয়ের জন্মজয়ন্তী পালনের মধ্য দিয়ে তাঁদের দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ এবং স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ের ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হয়।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রী বিশ্বনাথ মালিক। তাঁর সঙ্গে বিদ্যালয়ের সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ছাত্রছাত্রীরাও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

ভগৎ সিংয়ের জীবন, স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা এবং দেশের জন্য তাঁর আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করা হয়। একইসঙ্গে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বটুকেশ্বর দত্ত স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটি ও ট্রাস্টের কর্মী-সদস্যরা। পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামবাসীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। বটুকেশ্বর দত্তের জন্মভিটায় ভগৎ সিংয়ের জন্মজয়ন্তী পালনের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও বিশেষ উৎসাহ দেখা যায়। বক্তব্যে উপস্থিত বিশিষ্টরা ভগৎ সিং ও বটুকেশ্বর দত্তের বিপ্লবী কর্মকাণ্ড এবং তাঁদের দেশমাতৃকার প্রতি গভীর ভালোবাসার কথা স্মরণ করেন। তাঁদের আত্মত্যাগ শুধুমাত্র ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং বর্তমান প্রজন্মের কাছেও তা অনুপ্রেরণার উৎস বলে উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের সামনে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার মাধ্যমে আগামী প্রজন্মকে দেশের প্রতি দায়িত্বশীল করে তোলার বার্তা দেওয়া হয়।
বটুকেশ্বর দত্তের জন্মভিটায় দাঁড়িয়ে শহীদ ভগৎ সিংয়ের জন্মজয়ন্তী পালন হওয়ায় অনুষ্ঠানের তাৎপর্যও ছিল আলাদা। বিপ্লবী ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই স্থান এদিন ফের একবার হয়ে ওঠে শ্রদ্ধা, স্মরণ ও দেশাত্মবোধের কেন্দ্র। শিক্ষক-শিক্ষিকা, পড়ুয়া, স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটির সদস্য এবং গ্রামবাসীদের সম্মিলিত উপস্থিতিতে দিনটি যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়।









