উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়নগর : মরণোত্তর অঙ্গদান নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রচলিত কুসংস্কার ও ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে বিশেষ উদ্যোগ নিল জয়নগর-২ নম্বর ব্লক প্রশাসন। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেবায় আমার যোগদান সংক্রান্ত একাধিক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। তারই অঙ্গ হিসেবে শুক্রবার নিমপীঠে জয়নগর-২ বিডিও অফিসে আয়োজিত হল অঙ্গদান বিষয়ক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা।এদিনের সভায় মরণোত্তর অঙ্গদানের গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা এবং অঙ্গদানের মাধ্যমে কীভাবে মৃত্যুর পরও একজন মানুষের অঙ্গ অন্য এক অসুস্থ মানুষের জীবনে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

সাধারণ মানুষের মধ্যে অঙ্গদান সম্পর্কে থাকা বিভিন্ন ভ্রান্ত ধারণা ও ভয় দূর করার উপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।আলোচনায় জানানো হয়, একজন মানুষের মৃত্যুর পর তাঁর দান করা উপযুক্ত অঙ্গ গুরুতর অসুস্থ বা অঙ্গপ্রত্যাশী অন্য মানুষের চিকিৎসায় কাজে লাগতেপারে। বিশেষ করে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন রয়েছে এমন রোগীদের ক্ষেত্রে মরণোত্তর অঙ্গদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। পাশাপাশি কর্নিয়া দানের মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তি হারানো মানুষের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে যেতে পারে।অঙ্গদানকে শুধুমাত্র চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিষয় হিসেবে নয়, মানবিকতার এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবেও তুলে ধরা হয় সভায়।
মৃত্যুর পর শরীরের অঙ্গ অন্যের চিকিৎসায় কাজে লাগতে পারে—এই ধারণাকে সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত প্রকাশ করেন বক্তারা।সভা থেকে বলা হয়, অঙ্গদান নিয়ে সমাজে এখনও নানা ধরনের কুসংস্কার ও ভুল ধারণারয়েছে। সচেতনতার অভাবেই অনেক ক্ষেত্রে মানুষ অঙ্গদানের বিষয়টি নিয়ে দ্বিধায় থাকেন। তাই বৈজ্ঞানিক তথ্য ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ধরনের সচেতনতা মূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।বক্তারা জানান, অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত একটি অত্যন্ত মানবিক উদ্যোগ।
মৃত্যুর পরও নিজের অঙ্গের মাধ্যমে অন্য একজন মানুষের চিকিৎসায় সহায়তা করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফলে অঙ্গদান নিয়ে ভয় বা কুসংস্কারের পরিবর্তে সচেতন ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। জয়নগর-২ ব্লক প্রশাসনের এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয়মানুষের মধ্যে অঙ্গদান সম্পর্কে সচেতনতা আরও বাড়বে এবং প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মৃত্যুর পরও অন্যের জীবনে আশার আলো জ্বালানোর মানবিক বার্তাই এদিনের আলোচনা সভা থেকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।











