নেশা মুক্ত বংলা গাড়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে কঠোর মনোভাব নিয়েছেন তা শুক্রবার বর্ধমানের প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে দেন । প্রশাসনিক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী পূর্ব বর্ধমান জেলার পুলিশ সুপার কে নির্দেশ দেন, এক্সাইজ ডিপার্টমেন্টকে সঙ্গে নিয়ে যত চোলাই মদের ঠেক আছে তা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিন।একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এও জানিয়ে দেন,গাজা,হেরোইন চড়স চলবে না। কুড়ি বছর জেল খাটাবো ধরে। নদ নদী থেকে বালি লুটের বন্ধ করার জন্যেও এদিন প্রশাসনকে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন ,আমরা ইতিমধ্যে বালিঘাট গুলিকে নিলাম করতে বলেছি। আগে পাঁচটি সরকারি ঘাট ছিল আর ৫০০টা অবৈধ ঘাট ছিল। এখান থেকে টাকা তুলে ক্যামাক স্ট্রিটে পৌঁছে দিত। ৭৫-২৫ ভাগে চলত। ভোটের আগে বালি জমা করে রেখেছিল। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরে ডি,এম ম্যাডাম আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “যে স্যার এই বালি গুলো কি করব। আমি বললাম অকশন করুন। অকশন করে সরকারি রেভিনিউ সরকারের ঘরে পাঠান।

একটা শুধু ডিবি অকশন করেছে বর্ধমান শহরের গায়ে। তাতে ১৩ কোটি টাকা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রেভিনিউ এসেছে। যাতে টাকা চুরি না হয় তার জন্য তিনি এনভায়রনমেন্ট ক্লিয়ারেন্স নিয়ে সব ঘাট গুলিকে অকশন করে দেওয়ার কথা বলেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী ওই টাকা দিয়ে আরো হসপিটাল,স্কুল, রাস্তা কালভার্ট ও আরো অন্নপূর্ণা ভাতার দেওয়া যাবে। মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন ,জেলাশাসক ম্যাডামকে পরশুদিন বলেছি সাধারণ লোককে কম দামে বালি দিতে হবে। দরকার হলে আমরা বালি কিনে কম দামে দেবো। আর অক্টোবর মাস থেকে বালি খাদান চালু হয়ে গেলে রেট এমনিতেই কমে যাবে। সরকারী আবাস যোজনা ঘর নিয়েও আগের সরকারের আমলে দুর্নীতি হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী এদিন দাবি করেন।তিনি বলেন,আবাস যোজনার সার্ভে এখন চলছে। পূর্ব বর্ধমান জেলায় এখনো ৩ লক্ষ ৯ হাজার ২৬৩ জন আবাস যোজনা পেতে পারেন। বাড়ি তৈরীর জন্য জমির রেকর্ডের সমস্যা যাতে না হয় সেই বিষয়টা দেখার জন্য ভিডিওদের ল্যান্ড সেক্রেটারির সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী।আর শালী, ডাঙি এবং পাট্টা প্রাপক জমি বা যদি পাট্টা না পেয়ে থাকেন অথচ বসে আছেন যাঁরা তাদের পাট্টা ইমিডিয়েট দেওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী জেলাশাসককে জানিয়ে দেন। তিনি বলেন !আমরা তাকেও আবাস যোজনা বাড়িয়ে দিতে চাই।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন,আগের সরকার বাংলা আবাস যোজনা দিয়ে বলেছিল বিজেপি এলে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাবেন না। এক লক্ষ ৯১ হাজার জনকে বিগত সরকার প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা দিয়ে গিয়েছিল। আমরা সম্প্রতি একমাস আগে ভেরিফিকেশন করেছি। কারণ বিগত সরকারের আমলে অনেক দুর্নীতিগ্রস্ত নেতারা গোয়াল ঘর দেখিয়ে এক এক জন চার-পাঁচটা করে বাড়ি নিয়েছে। লুট করেছে। অবৈধভাবে লুট করেছে। মানরেগার টাকা লুট করেছে। আবাসের বাড়ি লুট করেছে। তাই আমরা ১ লক্ষ ৯১ হাজার জনকে ভেরিফিকেশন করতে পাঠিয়েছিলাম।। যে সত্যি এঁরা বাড়ি তৈরি করেছে ,নাকি টাকা পকেটে ঢুকিয়ে নিয়েছে নেতাদের কাট মানি দিয়ে।১ লক্ষ ৭৭ হাজার ৬৮৭ জনের ভেরিফিকেশন হয়েছে এবং তাদের আমরা দ্বিতীয় কিস্তির ৬০ হাজার টাকা দিয়েও দিয়েছি।আর ১৩ হাজার ৩৩৭ জনের পেন্ডিং আছে।এই পেন্ডিংয় যদি টাকা চুরি বিষয়টি ধরা পড়ের তবে টাকা ফেরতও করাবো ,জেলও খাটতে হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন।। এর কারণ হিসাবে , মুখ্যমন্ত্রী বলেন এবারের যে ভোট সেই ভোট শুধু আমাদের দেখে আপনারা দেননি।। কাট মানি সিন্ডিকেট তোলাবাজি চাকরি চুরি বালি চুরি ,কয়লা চুরি ও গরু পাচারের বিরুদ্ধেও আপনারা ভোট দিয়েছেন। তাই যারা আবাসের টাকা চুরি করেছেন টাকা ফেরত করাবেন আর জেলেও তারা যাবেন।দুটো কাজই একসঙ্গে করবেন বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, অন্নপূর্ণা যোজনাতে এই জেলায় ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী ১২ লক্ষ ৩৮ হাজার ৭৮৯ জন মহিলা , দিদিরা বোনেরা আবেদন করেছিলেন। এরমধ্যে প্রাথমিকভাবে এপ্রুভ হয়েছে ১২ লক্ষ ৫৬ হাজার ৩৩২ জনের। আন্ডার প্রসেস কয়েক হাজার আছে। বাতিল হয়েছে ১৭ হাজার ৪৫ জনের আবেদন ।ভেরিফিকেশন পেন্ডিং রয়েছে ১০ হাজার ৭১৪ জনের। টোটাল আমাদের ক্রেডিট হয়েছে ৯ লক্ষ ৫২ হাজার ৩৩১ জনের। বাকি যাদের ভেরিফিকেশনে এপ্রুভ হয়েছে তাদের পুজোর আগেই আমরা টাকা ট্রান্সফার করে দেবো। আরো যারা যোগ্য আছেন তাদেরকেও আমরা দিয়ে দেব। মুখ্যমন্ত্রী বলেন,পাঁচ মাস হয়নি আমাদের সরকার হয়েছে । তার মধ্যে রাজের ১ কোটি ৫৮ লক্ষ মহিলাকে আমরা অন্নপূর্ণা যোজনা সহায়তা দিয়েছি। বিখত সরকারের আমলে চাকরিও লুট হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী এদিন অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন,আগের সরকারের আমলে ২৬ হাজার চাকরি লুট হয়েছে। মার্চ ২০২৭ এর মধ্যে শিক্ষক, শিক্ষা কর্মী,পুলিশ, সরকারি দপ্তর মিলিয়ে একলক্ষ চাকরি দেবেন বলে মুখ্যমন্ত্রী এদিন কথা দেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, আগামী বাজেটে লোকপ্রসার শিল্পীদের ভাতাও বাড়ানো হবে।
নাবালিকা বিবাহ বন্ধ করতেয় সরকার যে বদ্ধ পরিকর তা স্পষ্ট করেদেন মুখ্যভন্ত্রী। তিনি বলেন õ ১৮ বছরের নিচে বিবাহ এবং বিবাহ পরিবর্তীতে গর্ভধারণ বিষয়ে ছয় মাসের হিসেব নিয়েছিলাম, ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ শে জুন। ভয়ংকর চিত্র।হাসপাতালে এসে প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি হয়েছে ৬০ হাজার। এক নম্বর আছে মুর্শিদাবাদ ১৩ হাজার ৭০০ জন। দু’নম্বরে আছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ৯ হাজার জন। এই তথ্য সামনে এনে মুখ্যমন্ত্রী হুঁশয়ারি দেন ,১২-১৪ বছরের মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন যাঁরা, তাঁরা কাজী হন, পাজি হন বা পুরোহিত, আপনাদের আমি সাবধান করে দিয়ে গেলাম। বর্ধমানের প্রশাসনিক সভা থেকে বিকশিত ভারত জি রাম জি প্রকল্পে ৎ ১২৫ দিনের কাজ নিয়ে বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী, শুভেন্দু অধিকারী। ৩১৭ রকমের কাজ করতে পারবেন। গাছ লাগানো, গাছ রক্ষণাবেক্ষণ থেকে শুরু করে ছোট রাস্তা তৈরি , কালভার্ট তৈরি, পুকুরের পাইলিং আই সি ডি এস সেন্টার ,প্রাইমারি স্কুল, ইরিগেশন এমনকি জল জীবন মিশনে কাজ করতে পারবেন। পূর্ব বর্ধমানের জেলা শাসককে উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন ,ডিএম ম্যাডাম আপনি আমাকে কথা দিন , বিকশিত ভারতে যারা জব কার্ড হোল্ডার তারা প্রত্যেকে যাতে ৩৪,৫০০ টাকা পায়। ১২৫ দিনের কাজ দিতে হবে। আমাদের বিধায়করা দেখে নেবেন নতুন ও পুরানো প্রত্যেকটা জব কার্ড হোল্ডার ১২৫ দিনে কাজ যেন পায়। প্রতিদিন ৩০০ টাকা করে পাওয়ার গ্যারান্টি দেন মুখ্যমন্ত্রী।









