আবহাওয়া দক্ষিণবঙ্গ শিক্ষা লাইফ স্টাইল স্বাস্থ্য ভ্রমন ধর্ম কৃষি কাজ ক্রাইম

শস্য গোলা বর্ধমানে এসে কৃষকদের জন্য নানা সহায়তার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী

krishna Saha

Published :

WhatsApp Channel Join Now

রাজ্যের শস্যগোলা হিসাবে পরিচিত পূর্ব বর্ধমান জেলার মাটিতে দাঁড়িয়ে শুক্রবার কৃষকদের জন্য একগুচ্ছ সুবিধা প্রদানের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু আধিকারী। বর্ধমানের পুলিশ লাইন মাঠে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক সভা থেকে এদিন মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন ,কৃষি ক্ষেত্রে বৈদুতিক পাম্পসেট ব্যবহারকারী রাজ্যের ৪ লক্ষের বেশী কৃষক এখন থেকে ইউনিট প্রতি ২ টাকা ভর্তুকি পাবেন। তার সূচনা এদিন করা হল। এরফলে গোটা রাজ্যের সব ব্লকের কৃষকরা ইলেকট্রিকে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা বছরে ছাড় পাবেন।তার জন্য রাজ্য সরকার বাড়তি ৩০০ কোটি টাকা খরচ করবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান।

বর্ধমানের প্রশাসনিক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী ভাতারের মাহাচান্দায় ১২৩ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত সাবস্টেশনের উদ্বোধন করেন। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী এদিন হুগলি জেলার ধনিয়াখালি ব্লকের ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে একটি দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুর সোনারপুরে একটি এবং বিষ্ণুপুর ব্লকের দৌলতপুরে একটি সাব স্টেশনের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী জানান । এই তিনটে সাবস্টেশন নির্মাণের জন্য বেশ কয়েক কোটি টাকা খরচ হল।এর পাশাপাশি ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মেমারি তারকেশ্বর রোডে পূর্ত দপ্তরের তৈরি নতুন ব্রিজের উদ্বোধনও এদিন মুখ্যমন্ত্রী করেন।

সভায় উপস্থিত কৃষকদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন , পিএম কৃষাণ সম্মান নিধি প্রকল্পে এবার থেকে ৯ হাজার টাকা করে পাবে রাজ্যের চাষিরা। এর জন্য কেন্দ্রেরয়দেওয়া ৬ হাজার টাকার সাথে রাজ্য সরকার আরো ৩ হাজার টাকা করে দেবে এই বছর থেকে। এরফল উপকৃত হবেন বাংলার ৫৪ লক্ষ কৃষক পরিবার। কৃষক বন্ধু প্রকল্প নিয়ে বিচলিত না হওয়ার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কৃষক বন্ধুর ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হয়ে যাবে। তার ফলে ১ শতক কৃষিজমি থাকা কৃষক বছরে এককালীন চার হাজার টাকা পাবেন। ভেরিফিকেশন কমপ্লিট হয়ে গেলে টাকা মিলে যাবে বলে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন।একই সঙ্গে তিনি জানান, পিএম কিষান পান না , ৪০ শতকের বেশি কৃষি জমি আছে,এমন কৃষককে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ৬০০০ টাকা করে বছরে দেবে।

সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান বিক্রি নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী এদিন বড় ঘোষণা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, কুইন্টাল প্রতি ধানের সরকার নির্ধারিত মূল্য ২৫০০ টাকার সাথে বাড়তি আরো ২০০ টাকা করে দেবে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন,আমরা সরাসরি ধান কিনবো। মাঝখানে কোন দালাল কোন রাইস মিলের মাফিয়া,কোনও দুই নম্বর লোক বা কৃষকদের বঞ্চিত করার লোক মাঝখানে আমরা রাখবো না। সরাসরি যত খুশি ধান কৃষকরা দেবেন দেবেন, আমরা কিনে নেব।। কোন লিমিট নেই। ১০০ কুইন্টাল ধান দিলে এমএসপির সাথে বাড়তি কুড়ি হাজার টাকাও পাবেন কৃষকরা।


আগের সরকারের আমলে চাষিদের কাছ থেকে ধান কেনা নিয়ে যে সব অন্যায় অপকর্ম হয়েছে তার কিছুই আর হবে না। আমাদের বিধায়করা সবাই তারজন্য পাহারাদারি করবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান। মুখ্যমন্ত্রী জানান প্রধানমন্ত্রী কৃষি সেচাই যোজনা, ধনধান্য স্কিম আমরা ইতিমধ্যেই চালু করেছি। কৃষকদের জন্য আরো আরো কো-আপারেটিভ, মাইনর ইরিগেশন এবং হর্টিকালচার কে যুক্ত করে, আরো সুন্দরভাবে আমরা কৃষকদের সাহায্য করতে চাই। এর সাথে আলু চাষীদের ভর্তুকি, সার সরকারিভাবে দেওয়া সহ আলু চাষীদের জন্য বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করবে সরকার।পূর্ব বর্ধমান জেলায় আয়ুষ্মানে মোট বেনিফিশিয়ারী যে ৩৩ লক্ষ ১৫ হাজার সতেরো জন হবেন তাও এদিন প্রশাসনিক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েদেন।

krishna Saha

আমার নাম কৃষ্ণ কুমার সাহা, আমি ফুল টাইম সাংবাদিকতা করি।গত ১৪ বছর ধরে এই পেশায় আছি