নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব বর্ধমান: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিদ্যালয় শিক্ষা বিভাগের নির্দেশ অনুসারে ২৫ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে পালিত হচ্ছে সংস্কৃত সপ্তাহ। তারই অংশ হিসেবে সোমবার পূর্ব বর্ধমানের শক্তিগড় সাফদার হাসমি হাই স্কুলে জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হল সংস্কৃত দিবস।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অভিজিৎ ঘোষ-এর অনুপ্রেরণায় এবং সংস্কৃত শিক্ষক তারকনাথ অধিকারী-র উদ্যোগে, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী ও ছাত্র-ছাত্রীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে দিনটি উৎসবের আবহে উদযাপিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী (বিডিও, বর্ধমান-২), শিসম দাস (এসআই, শক্তিগড় থানা), সাহানারা খাতুন (এসআই অব স্কুলস, বড়শুল), দীনেশ প্রসাদ (বিএলও) এবং শুভ্রা ঘোষ (লেডি কনস্টেবল, শক্তিগড় থানা)।

অনুষ্ঠানে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, সংস্কৃত ভাষায় শ্লোকপাঠ, লঘুনাটিকা, গল্পপাঠ, সংস্কৃত ভাষায় কথোপকথন, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং সংস্কৃত ভাষার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
বক্তারা বলেন, সংস্কৃত শুধুমাত্র একটি ভাষা নয়, এটি ভারতীয় জ্ঞান, দর্শন, সাহিত্য ও সংস্কৃতির অমূল্য ভাণ্ডার। বেদ, উপনিষদ, রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ, কালিদাসের কাব্য ও চাণক্যের নীতিশাস্ত্রের মতো অমূল্য গ্রন্থ এই ভাষায় রচিত হয়েছে। পাশাপাশি বিজ্ঞান, গণিত, আয়ুর্বেদ, জ্যোতির্বিদ্যা, ব্যাকরণ ও দর্শনের বিপুল জ্ঞানভাণ্ডারও সংস্কৃত ভাষায় সংরক্ষিত রয়েছে।
আলোচনায় আরও তুলে ধরা হয় যে, সংস্কৃত ভাষা অধ্যয়ন কেবল পরীক্ষামুখী শিক্ষা নয়; বরং ভারতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে জানার অন্যতম মাধ্যম। আধুনিক ভাষাবিজ্ঞান, কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গবেষণাতেও সংস্কৃত ব্যাকরণের সুসংগঠিত নিয়ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করে, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সংস্কৃত ভাষা, ভারতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে।











