সুমন্ত দাস, কৃষকসেতু: চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে দুর্দান্ত এক পারফরম্যান্সে ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক মহাকাব্য লিখলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ম্যাচে দৃষ্টিনন্দন জোড়া গোল করে পুরুষ ও নারী ফুটবল মিলিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এককভাবে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসন দখল করেছেন এই ফুটবল জাদুকর। এই ঐতিহাসিক ম্যাচের আগে বিশ্বকাপের মঞ্চে সর্বোচ্চ ১৭টি গোল নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছিলেন ব্রাজিলের নারী ফুটবল কিংবদন্তি মার্তা।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করার পর মেসির মোট বিশ্বকাপ গোল সংখ্যা এখন দাঁড়িয়েছে ১৮-তে। এর ফলে তিনি মার্তার ১৭ গোল এবং জার্মানির পুরুষ ফুটবলার মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ডকে পেছনে ফেলে অনন্য এক উচ্চতায় পৌঁছালেন। ম্যাচের প্রথমার্ধে একটি নিখুঁত পেনাল্টি শটে মার্তাকে স্পর্শ করেন মেসি (১৭তম গোল)। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে ডি-বক্সের বাইরে থেকে তাঁর ট্রেডমার্ক ও অবিশ্বাস্য এক দূরপাল্লার শটে মার্তাকে ছাড়িয়ে যান তিনি (১৮তম গোল)।
রেকর্ডের রাতটি এখানেই শেষ নয়। ৩৯ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা ফুটবল ইতিহাসের প্রথম পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে টানা ৬টি ভিন্ন বিশ্বকাপে (২০০৬ থেকে ২০২৬) খেলার অভূতপূর্ব কীর্তি গড়েছেন। একই সাথে বিশ্বকাপে একক খেলোয়াড় হিসেবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ (২৮টি) খেলা এবং সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জেতার (১৮টি) রেকর্ডও এখন তাঁরই দখলে।
ম্যাচ শেষে এই কিংবদন্তি জানান, ব্যক্তিগত রেকর্ড আনন্দের হলেও দলের জয় এবং ট্রফি ধরে রাখাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক ফুটবলের মঞ্চে মেসির গড়া এই অবিশ্বাস্য ও অতিমানবীয় রেকর্ড আগামী কয়েক দশকেও ভাঙা প্রায় অসম্ভব।










