ভাতার :-পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক রদবদলের পর খাদ্য ও সরবরাহ দফতরে শুরু হয়েছে শুদ্ধিকরণ অভিযান। নতুন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়ার নেতৃত্বে রেশন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ মানুষের হাতে উন্নত মানের খাদ্যশস্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে একের পর এক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বহুদিন ধরে রেশন ব্যবস্থাকে ঘিরে নিম্নমানের চাল-গম সরবরাহ, অনিয়ম ও দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠে এসেছে, তা খতিয়ে দেখতে এবার সরাসরি মাঠে নামলেন খাদ্যমন্ত্রী।
শুক্রবার পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতার বিধানসভার ওড়গ্রামে অবস্থিত এফসিআই (FCI)-এর খাদ্যগুদামে আকস্মিক পরিদর্শনে যান খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া।
পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই তাঁর এই সফরে প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। গোডাউনের প্রতিটি অংশ ঘুরে দেখে সেখানে মজুত থাকা চাল ও গমের স্টক খতিয়ে দেখেন তিনি।
পরিদর্শনের সময় প্রায় প্রতিটি স্টকের বস্তা খুলে খাদ্যশস্যের নমুনা সংগ্রহ করেন খাদ্যমন্ত্রী। চাল ও গমের গুণগত মান নিয়ে কোথাও কোনও সন্দেহ দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে সেই নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, পরীক্ষার রিপোর্টে কোনও অনিয়ম বা নিম্নমানের খাদ্যশস্যের প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুধু খাদ্যসামগ্রীর মান যাচাই নয়, গোডাউনে কর্মরত শ্রমিকদের সঙ্গেও দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী। তাঁদের কাজের পরিবেশ, সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা ও অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন। শ্রমিকদের বক্তব্যও নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের।
পরিদর্শনের শেষে খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে গোডাউনগুলিতে যে খাদ্যসামগ্রী মজুত রয়েছে, তার অধিকাংশই পূর্বতন সরকারের আমলে সংরক্ষিত হয়েছিল। সেই কারণেই রাজ্যের বিভিন্ন খাদ্যগুদামে রাখা খাদ্যশস্যের প্রকৃত মান যাচাই করার জন্য এই পরিদর্শন অভিযান শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, “কয়েকটি স্টকের চালের গুণগত মান নিয়ে আমাদের সন্দেহ হয়েছে। সেই কারণে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে এলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনও ধরনের গাফিলতি বা নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে দেওয়া হবে না”।
খাদ্যমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে জানান, রেশন ব্যবস্থায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। খাদ্যসামগ্রীর মানের সঙ্গে কোনওরকম আপস করা হবে না। সাধারণ মানুষ যাতে নির্ধারিত মানের চাল ও গম পান, তা নিশ্চিত করতেই রাজ্যের বিভিন্ন এফসিআই গোডাউন ও খাদ্যগুদামে ধারাবাহিক পরিদর্শন চালানো হবে।
রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত করার লক্ষ্যে খাদ্যমন্ত্রীর এই আকস্মিক অভিযানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রশাসনিক মহল। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, খাদ্যমন্ত্রীর এই কড়া অবস্থান রেশন ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং ভবিষ্যতে খাদ্যশস্যের মান নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর নজরদারির পথ সুগম করবে।











