আবহাওয়া দক্ষিণবঙ্গ শিক্ষা লাইফ স্টাইল স্বাস্থ্য ভ্রমন ধর্ম কৃষি কাজ ক্রাইম

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার মিললেও চাঙ্গা হয়নি পরিবারের অর্থনীতি-তার উপর অগ্নিমূল্য বাজার-মনমতো লক্ষ্মী আরাধনার ব্যবস্থা করতে না পেরে ক্ষুব্ধ গৃহ লক্ষ্মীরা

krishna Saha

Published :

WhatsApp Channel Join Now

দুর্গোৎসবেই মায়ের সঙ্গে এসেছিলেন মর্তলোকে। দেবীপক্ষের কয়েকটা দিন মা উমার ভক্তদের সঙ্গে কাটিয়ে আবার মায়ের সঙ্গেই ফিরে গিয়েছিলেন সেই কৈলাশে । ভক্ত কুলের কাছে ধন ও ঐশ্বর্য্যের দেবী রুপেই তাঁর পরিচিতি । তিনি হলেন দেবী৩৩ লক্ষ্মী। আর্থিক মন্দা থেকে পরিত্রান লভে তিনিই একমাত্র ভরসা। তাই তাঁর প্রতি বিশ্বাস ও ভক্তিতে বাঙালি হিন্দুদের মনে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। এবার কোজাগরী পূর্ণীমায় একাকি মর্তলোকে আবির্ভূতা হবেন ধন ও ঐশ্বর্যের দেবী। ওইদিন তাঁর পুজো অর্চনা ঘিরে মাতোয়ারা থাকবে প্রতিটি বাঙালির ঘর ।

সাইনিং ইন্ডিয়া গড়তে নোট বন্দির পর লাগু হয়েছে জিএসটি।এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে জীবন ওষ্ঠাগত হয়ে ওঠে ব্যবসায়ীদের ।তা সামলে উঠতে না উঠতেই দেশ জুড়ে থাবা বসায় করোনা ভাইরাস ।তার কারণে দীর্ঘ দিন টানা লকডাউন চলায় কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ে দেশের বাজার অর্থনীতি।তা জেনেও দেশের পুঁজির ভান্ডার হাতিয়ে নিয়ে বিদেশে গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে বীজয় ভিত্তাল মালিয়া , নীরব মোদি , নেহু চোকশি প্রমুখ ধনকুবেররা ।এ সবের মধ্যেই তৃণমূল সরকারের
রাজত্বে বাংলার প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং মাথায় অক্ষিজেন কম যাওয়া তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের আয় বহির্ভূত বিপুল সম্পত্তি ধন দৌলতের হদিশ উদ্দার করে সিবিআই ও ইডি।এত কিছুর পরেও বাঙালি হিন্দু ভক্তকুলের বিশ্বাস, লক্ষ্মীদেবীর কৃপা লাভ ছাড়া পরিবার কিংবা রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক হাল পুনরুজ্জীবিত হওয়া সম্ভব নয় ।এমন বিশ্বাসে দৌলতেই বাংলায় লক্ষ্মী দেবীর গ্ল্যামার ও জনপ্রিয়তা এখনও তুঙ্গে রয়েছে।দেবীর কৃপা লাভের প্রত্যাশায় ভরকরে বাংলা এখন ভাসছে লক্ষ্মী উন্মাদনায় ।

ভক্তকুলে আর্থিক মন্দার প্রভাব এতটাই যে কৈলাশে পৌছাতে না পৌছাছাতেই অর্থিক দুর্দশায় জর্জরিত অগুনিত ভক্ত অনুরাগীর আমন্ত্রন বর্তায় ভরেগেছে লক্ষ্মীদেবীর দপ্তর। সেই আমন্ত্রন প্রত্যাখানেরও উপায় নেই । ভক্তদের স্পেশাল আমন্ত্রন বলে কথা । বাঙালির ঘরে ঘরে নিজের জনপ্রিয়তা অটুট রাখতে তাই রবিবার মর্তলোকে আবারও আসতে হচ্ছে লক্ষ্মী দেবীকে । স্পেশাল আমন্ত্রন সফরে তাঁর সঙ্গে মর্তলোকে আসার চান্স মিলেছে শুধু মাত্র এক জনেরই । তিনি হলেন দেবীর বিশ্বস্ত সচীব পেঁচা । দেবী কোন কোন ভক্তের আতিথেওতা গ্রহন করবেন সেই বিষয়টি সচীব মহাশয় ইতিমধ্যেই চুড়ান্ত করে ফেলেছেন ।

মর্তলোকের বাঙালি পরিবার গুলিতে লক্ষ্মীদেবীর জনপ্রিয়তা দেখে গনেশ , কার্তিক ও সরস্বতীর একটু ঈর্শা হয় ঠিকই । কিন্তু কিছুতো আর করার নেই। দেশে পুঁজির ভাণ্ডার কমতে শুরু হলে যা হয় তাই হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন,’দেশের
মানুষের রোজগার যত কমছে ততই বাড়ছে দারিদ্রতা।তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ’ভাতা’
নির্ভরতা।এই সবের ফলশ্রুতিতে লক্ষ্মী দেবীর গ্ল্যামার ও জনপ্রীয়তাও হুহু করে বাড়ছে।সংসারের আর্থিক মন্দা থেকে মুক্তি লাভের প্রত্যাশায় বাঙালি এখন দেবী লক্ষ্মীর কৃপা লাভেই ভরসা রেখেছেন ।লক্ষ্মীদেবীর মর্তলোকে আসার সফর সূচী ইতিমধ্যেই চুড়ান্ত হয়েছে । দেবলোক সূত্রে খবর পঞ্জিকার বিষুদ্ধ মতের সময় সারণী মেনে রবিবার বেলা ১১টা ৫৫মিনিট নাগাদ লক্ষ্মীদেবী মর্তলোকে অবতরণ করবেন।কোজাগরি লক্ষী পূর্ণিমা তিথির পূর্ণ সময় কাটিয়ে পরদিন সকাল ৯ টা ৪১মিনিটে ধনদেবী ফের কৈলাশে প্রস্থান করবেন।দেবীর এই সফর সূচী যাতে নর্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়,তার তদারকি লক্ষ্মীদেবীর সচীব পেঁচা নিজেই করছেন ।

রাষ্ট্রের অর্থিক মন্দা দশা যাই থাক না কেন লক্ষ্মীদেবী কোন কোন ভক্তের আতিথেওতা গ্রহন করবেন তা অত্যন্ত গোপন রাখা হয়েছে । দেবীর সচীব এখন শুধু নজর রাখছেন কোন ভক্তের বাড়িতে পুজো আয়োজনের জৌলুশ কতটা সেদিকে। সূত্রের খবর পুজো আয়োজনের জৌলুশ যাচাই করে বিশেষ বিশেষ ভক্তের আতিথেওতা গ্রহন করবেন দেবী । যদিও ধনদেবী কোন কোন ভক্তের আতিথেওতা গ্রহন করবেন তা জনপ্রিয়তা বজায় রাখার স্বার্থে দেবীর দপ্তর কর্তৃক একান্ত ভাবেই গোপন রাখা হয়েছে । ভক্তরা অবশ্য এসব নিয়ে মাথা ঘামানোর আগ্রহ দেখাচ্ছেন না । সেরা আতিথেওতা দিয়ে লক্ষ্মীদেবীর কৃপা লাভের মরিয়া প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বাঙালি গৃহস্থ কুল ।

তৃণমূল সরকার বাংলায় এখন অতীত।সনাতনী বিজেপি এখন বাংলার শাসন ক্ষমতায়।আবার কেন্দ্রেও বিজেপি-র সরকার। এমন ডবল ইঞ্জিন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এখন বাংলার অর্থনীতির রক্ষাকর্তা বিধাতা।তিনি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প চালু করায় বাংলার অনেকমহিলা এখন প্রতিমাসে তিন হাজার টাকা করে পাচ্ছেন ঠিকই।তবে এতে বাঙালি গৃহস্থ পরিবারের সার্বিক অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে গিয়েছে,এমনটা অবশ্য নয়।এমত অবস্থায়যাঁক জমক পূর্ণ ভাবে বাড়িতে লক্ষ্মী পুজো আয়োজনের সাধ থাকলেও অনেক ভক্তেরই সাধ্যে কুলোচ্ছে না । পুজো আয়োজনে কোন ঘাটতি রাখতে না চাইলেও বাধ সেধেছে ভক্তদের মানি ঘাটতি । এই পরিস্থিতে দেবীর কৃপালাভ কিভাবে সম্ভব হবে সেই দুশ্চিন্তাই পিছু তাড়াকরে বেড়াচ্ছে ভক্তদের ।

দশকর্মা থেকে শুরু করে প্রতিমা , ফল, ফুল ও আনাজপাতি সবেরই বাজার দর অগ্নি মূল্য । পকেট গড়ের মাঠের চেহারা নেওয়ায় লক্ষ্মী ভক্তদের অনেক মেনুই কাটছাঁট করতে হচ্ছে । গ্রাম থেকে শহর , দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে সর্বত্রই । বাঙালি পরিবার গুলিতে লক্ষ্মী পুজো আয়োজনের জৌলুশ যতই কমছে ততই ক্ষোভ বাড়ছে বাজার অর্থনীতি নিয়ন্ত্রনের দায়িত্বে দেশের সরকার বাহাদুরের ওপর। ভক্তদের কথায় একটা বিষয় পরিস্কার বোঝাযাচ্ছে , ধনদেবীর কৃপালাভ থেকে তারা যত বঞ্চিত হবেন তাতই তাঁদের রোষ আছড়ে পড়বে আগামী ভোটের ইভিএমে।

krishna Saha

আমার নাম কৃষ্ণ কুমার সাহা, আমি ফুল টাইম সাংবাদিকতা করি।গত ১৪ বছর ধরে এই পেশায় আছি