শ্রীমদ্ভগবদগীতা। ভারতীয় সংস্কৃতির প্রাণ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সংস্কৃত ভাষার দূরত্বের কারণে অনেকেই এই মহাগ্রন্থ থেকে দূরে সরে গিয়েছেন। সেই ব্যবধান ঘোচাতেই এক কঠিন সংকল্প নিয়েছিলেন বাঁকুড়ার এই মেয়ে। লক্ষ্য একটাই – গীতার অমৃতবাণীকে ঘরে ঘরে, প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু কাজটা সহজ ছিল না। সংস্কৃত শ্লোকের গভীর দার্শনিক অর্থকে অবিকৃত রেখে, তাকে সহজ, সরল ও প্রাঞ্জল বাংলায় অনুবাদ করা। দিনের পর দিন, রাতের পর রাত পুঁথি ঘেঁটে, অভিধান দেখে, গুরুজনদের পরামর্শ নিয়ে একের পর এক শ্লোকের মর্মার্থ উদ্ধার করেছেন সোমা।

তাঁর এই নিষ্ঠা ও সাধনা নজর এড়ায়নি দেশের। ইতিমধ্যেই সর্বকনিষ্ঠা বাঙালি মহিলা হিসেবে ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ড এবং ন্যাশনাল বুক অফ রেকর্ড কর্তৃপক্ষের তরফে বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। আর এবার রাজ্য স্তরেও মিললো বড় সম্মান। তাঁর হাতে উঠলো ‘বঙ্গ প্রতিভা সম্মান’। বঙ্গ প্রতিভা সম্মান প্রাপ্তির বাঁকুড়া শহরের স্টেশান মোড় এলাকার বাসিন্দা, পেশায় একটি কলেজের শিক্ষিকা সোমা চৌনীর সাথে দীর্ঘ কথোপকথনে উঠে আসে তাঁর লড়াইয়ের গল্প। উঠে আসে পরিবারের নিঃস্বার্থ সহযোগিতা এবং আগামী দিনে আরও বড় কাজ করার স্বপ্নের কথা।
সোমা চৌনীর এই সাফল্য গোটা বাঁকুড়া তথা পশ্চিমবঙ্গের কাছে গর্বের। তাঁর গল্প আমাদের শেখায়, বয়স, লিঙ্গ বা প্রতিকূলতা কোনও কিছুই তখন বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না, যখন মনের মধ্যে থাকে অদম্য জেদ আর কাজের প্রতি ভালোবাসা।











