সুমন্ত দাস কৃষকসেতু: ভারতীয় সঙ্গীত জগতে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অবিসংবাদিত অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘পদ্মভূষণ’-এ ভূষিত হলেন প্রখ্যাত প্লেব্যাক সঙ্গীতশিল্পী অলকা ইয়াগনিক। গত মঙ্গলবার (২৩ জুন, ২০২৬) নতুন দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনের দরবার হলে আয়োজিত দ্বিতীয় দফার বিশেষ ‘সিভিল ইনভেস্টিচার’ অনুষ্ঠানে ভারতের মাননীয়া রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁর হাতে এই সম্মাননা পদক তুলে দেন।

পুরস্কার মঞ্চে অলকা ইয়াগনিকের শ্রদ্প্রধানমন্ত্রীকে শ্রদ্ধা ও ভক্তদের উদ্বেগপুরস্কার গ্রহণের পূর্বে অলকা ইয়াগনিক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন এবং আশীর্বাদ নেন। ওনার এই বিনম্র আচরণ উপস্থিত সকলের প্রশংসা কুড়ায়। তবে দীর্ঘ সময় পর জনসমক্ষে আসা এই শিল্পীকে বেশ কিছুটা দুর্বল ও কৃশ দেখাচ্ছিল। মঞ্চে হাঁটার সময় তাঁকে ইভেন্ট স্টাফ এবং নিরাপত্তারক্ষীদের সামান্য সহায়তা নিতে হয়, যা তাঁর কোটি ভক্তের মনে উদ্বেগের সৃষ্টি করে।অসুস্থতা নিয়ে অলকা ইয়াগনিকের বক্তব্যপুরস্কার পাওয়ার পর বুধবার ২৪ জুন সকালে নিজের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে একটি আবেগঘন বিবৃতি প্রকাশ করেন অলকা ইয়াগনিক। ভক্তদের আশ্বস্ত করে তিনি জানান, বিগত দুই বছর ধরে তিনি স্পটলাইট এবং জনসমক্ষ থেকে দূরে ছিলেন এক কঠিন স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে— (উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে তিনি একটি বিরল শ্রবণজনিত রোগ ‘সেন্সরিনিউরাল নার্ভ হিয়ারিং লস’-এ আক্রান্ত হন)।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি লেখেন,”আজ যখন আমি দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘পদ্মভূষণ’ গ্রহণ করতে পা বাড়ালাম, তখন আমার মন কৃতজ্ঞতায় পূর্ণ ছিল। এই সম্মান আমার একার নয়, এটি সেই সমস্ত শ্রোতাদের যারা বিগত বহু প্রজন্ম ধরে আমার কণ্ঠকে ভালোবেসেছেন এবং আমার কঠিন সময়েও প্রার্থনা ও ভালোবাসা দিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমি ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে ফিরছি এবং এই মঞ্চে আসাটা আমার শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি একটি ভালোবাসার উপহার।”পাশাপাশি তিনি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিও বিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
সুরের জগতে এক অনন্য নক্ষত্র১৯৮০-র দশকে বলিউডে পা রাখার পর হিন্দি সিনেমা জগতে রাজত্ব করেছেন অলকা ইয়াগনিক। হিন্দি ছাড়াও বাংলা, ওড়িয়া, ভোজপুরি ও পাঞ্জাবিসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় তিনি হাজার হাজার কালজয়ী গান উপহার দিয়েছেন। লতা মঙ্গেশকর এবং আশা ভোঁসলের পর বলিউড ইতিহাসে একক নারী কণ্ঠশিল্পী হিসেবে সবচেয়ে বেশি গান গাওয়ার রেকর্ড রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। তাঁর এই পদ্মভূষণ প্রাপ্তি ভারতীয় সংস্কৃতি এবং মেলোডি সঙ্গীতের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।








