মালদা:-মালদার মহদীপুর আন্তর্জাতিক সীমান্তে বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া বিপুল পরিমাণ কাফ সিরাপ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় ইংলিশবাজার পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি তথা তৃণমূল নেতা মারুফ শেখের নাম উঠে আসায় রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার মহদীপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে রপ্তানির উদ্দেশ্যে যাওয়া একটি পাথরবোঝাই লরি আটক করা হয়। প্রাথমিকভাবে গাড়িটি পাথর রপ্তানির জন্য সীমান্ত পার হওয়ার কথা থাকলেও সন্দেহের ভিত্তিতে বিএসএফ ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে তল্লাশি চালায়। তল্লাশিতে লরির ভিতর থেকে বিপুল পরিমাণ কাফ সিরাপ উদ্ধার হয়। মোট ২২ হাজার ৮০০ বোতল কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা বলে জানা গিয়েছে। উদ্ধার হওয়া সমস্ত কাফ সিরাপ বাজেয়াপ্ত করেছে কাস্টমস বিভাগ।
এই ঘটনায় লরির চালক আকরামুল শেখকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে বিএসএফ। তদন্তকারীরা পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের খোঁজেও তল্লাশি চালাচ্ছেন। এদিকে ঘটনার পর থেকেই মহদীপুর সীমান্তের ক্লিয়ারেন্স এজেন্ট মারুফ শেখের নাম সামনে আসতে শুরু করেছে। মারুফ শেখ বর্তমানে ইংলিশবাজার পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা হিসেবে পরিচিত। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন রপ্তানিকারকের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মারুফ শেখের নাম জড়িয়ে রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এই ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে বৈধ রপ্তানি ব্যবসায়ীরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবিও তুলেছেন তাঁরা। ঘটনাকে ঘিরে সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে প্রশাসন, ব্যবসায়ী মহল এবং রাজনৈতিক মহলের। তবে তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করতে নারাজ তদন্তকারী সংস্থাগুলি।










