বলরাম সাহা ,রায়না, পূর্ব বর্ধমান: শস্যভাণ্ডার বর্ধমান জেলার দক্ষিণ দামোদর অববাহিকা ধান চাষের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। সেই অঞ্চলের অন্যতম কৃষিপ্রধান এলাকা রায়না-১ ব্লক, যেখানে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ জমিতে ধান চাষ হয়। কৃষকদের আরও লাভবান করতে এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতির প্রসার ঘটাতে রায়না-১ ব্লকে অনুষ্ঠিত হলো প্রাকৃতিক কৃষি বিষয়ক বিশেষ কর্মশালা।

রাজ্যব্যাপী আয়োজিত এই কর্মশালার অংশ হিসেবে রায়না-১ ব্লক বিডিও অফিস সংলগ্ন মহিলা মহাসংঘ ভবনে কৃষক, কৃষি বিশেষজ্ঞ ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের উপস্থিতিতে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় মূলত জৈব ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চাষাবাদের মাধ্যমে কীভাবে কৃষকরা অধিক লাভবান হতে পারেন, সেই বিষয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনায় বক্তারা জানান, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে জমির স্বাভাবিক উর্বরতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। অন্যদিকে জৈব সার ও প্রাকৃতিক কৃষি পদ্ধতি মাটির স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রায়নার বিধায়ক সুভাষ পাত্র, রায়না-১ ব্লকের জয়েন্ট বিডিও অনিরুদ্ধ সাহা, কৃষি বিজ্ঞানী প্রশান্ত কুমার পাঠক, এডিএ ডঃ প্রভাত উৎপল আচার্য, জেলা কৃষি আধিকারিক বাসবদত্তা ব্যানার্জি এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর অফ এগ্রিকালচার অম্লান সরকার। বিধায়ক সুভাষ পাত্র বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে শুধু ফসল উৎপাদন ব্যবস্থাই নয়, সামগ্রিকভাবে সমাজও ক্ষতির মুখে পড়ছে। তাই জৈব ও প্রাকৃতিক কৃষির মাধ্যমে কৃষকদের আরও লাভের মুখ দেখানোর লক্ষ্যেই এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।”
কৃষি বিশেষজ্ঞরাও জানান, জৈব সার ব্যবহারের ফলে শোষক পোকার আক্রমণ কমে, জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়, ফলনের মান উন্নত হয় এবং সুগন্ধি ধানের প্রকৃত সুগন্ধও ফিরে আসে। পাশাপাশি উৎপাদন খরচ কমিয়ে কৃষকদের আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনাও তৈরি হয়। প্রাকৃতিক কৃষিকে জনপ্রিয় করে তুলতে এবং কৃষকদের সচেতন করতে ভবিষ্যতেও এই ধরনের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয় কর্মশালায়।










