
লাউদোহা, ১১ জুন: রাজ্যে প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর অবৈধ বালি, কয়লা ও লোহার কারবার বন্ধের দাবি করা হলেও এখনও বিভিন্ন এলাকায় বৈধতার আড়ালে অবৈধ ব্যবসা চলার অভিযোগ উঠছে। এবার এমনই অভিযোগ সামনে এসেছে দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের গৌরবাজার এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গৌরবাজার এলাকায় একাধিক ছোট ছোট বালির গ্রেডেশন (কণা-বিন্যাস) ইউনিট গড়ে উঠেছে। নদী থেকে বালি এনে তা প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে সূক্ষ্ম বালিতে পরিণত করে বস্তাবন্দি অবস্থায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হয়। ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা সমস্ত বৈধ কাগজপত্র মেনেই দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
তবে বৃহস্পতিবার সকালে শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামের কয়েকজন যুবক একটি বালি বোঝাই গাড়ি আটক করলে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ, গাড়ির চালকের কাছে বালির বৈধ নথি দেখতে চাওয়া হলে দেখা যায় চালানটি ফেব্রুয়ারি মাসের। আরও অভিযোগ, চালানে ট্রাক্টরের মাধ্যমে বালি পরিবহনের উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে বালি বহন করছিল একটি ১৬ চাকার ভারী ট্রাক।

গ্রামবাসীদের দাবি, জেলা পরিষদের ওই রাস্তায় ১০ টনের বেশি ওজনের যান চলাচলের অনুমতি নেই। কিন্তু নিয়ম অমান্য করে ৩০ থেকে ৩৫ টন বালি বোঝাই ভারী যানবাহন নিয়মিত চলাচল করছে। এর ফলে রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধভাবে বালি পরিবহনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে গাড়ি আটকানোর পর ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে পুলিশ উল্টে গ্রামের চার যুবককে আটক করেছে। তাদের মুক্তি এবং বৈধতার আড়ালে চলা অবৈধ কারবার বন্ধের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই লাউদোহা-ফরিদপুর থানার সামনে বিক্ষোভে সামিল হন শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামের বহু বাসিন্দা।

এ বিষয়ে বালি ব্যবসায়ী সজল কান্তি দত্ত জানান, এলাকায় একাধিক বালির গ্রেডেশন ইউনিট রয়েছে এবং সমস্ত আইন মেনেই ব্যবসা পরিচালিত হয়। তবে ব্যাকডেটেড চালানে বালি পরিবহন কিংবা ১০ টনের বেশি ওজনের গাড়ি চলাচল নিয়ে প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি তিনি। যদিও তিনি স্বীকার করেন যে অতীতে এই রাস্তা দিয়ে ১০ টনের বেশি ওজনের বালি বোঝাই গাড়ি চলাচল করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা চিরঞ্জিত রাউত বলেন, বৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে তাদের কোনও আপত্তি নেই, কারণ এই শিল্পের সঙ্গে বহু মানুষের জীবিকা জড়িত। তবে বৈধতার আড়ালে যদি কোনও অবৈধ কর্মকাণ্ড চলে, তাহলে তা বন্ধ হওয়া উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, ভারী যানবাহনের লাগাতার চলাচলের কারণে রাস্তার অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হয়ে পড়েছে। ফলে বাস চলাচলও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
গ্রামবাসীদের আরও দাবি, প্রতিদিন বহু ছাত্রছাত্রী এই রাস্তা ব্যবহার করে স্কুলে যায়। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে যে কোনও সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই অবিলম্বে ভারী বালি বোঝাই গাড়ির চলাচল বন্ধ করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রশাসন ও পুলিশের তরফে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।











