উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়,জয়নগর : রাজ্যে ক্ষমতা চলে যাবার পর তৃনমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সামনে চলে আসছে।সরকারি জায়গা দখল করে একাধিক জায়গায় তৃনমূল কংগ্রেসের দলীয় অফিস হয়েছিলো।আর এবার স্কুলের জায়গায় তৃনমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় করার অভিযোগকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ালো জয়নগরে।

স্কুলের জায়গা দখল করে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় তৈরির প্রতিবাদে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোস্তাক আহমেদ। জয়নগর থানার উত্তর দুর্গাপুর পঞ্চায়েতের ৯৬ নং বুথের আলিপুর পশ্চিম পাড়া অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঘটনা।স্কুল সূত্রের খবর,বছর দু’য়েক আগে স্কুলের জায়গায়,স্কুলেরই দেওয়াল লাগোয়া তৃণমূলের একটি কার্যালয় তৈরি হয়।এ ব্যাপারে স্কুলের তরফে তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব এবং প্রশাসনকে জানানো হলেও লাভহয়নি বলেঅভিযোগ।
রাজ্যে পালাবদলের পরে এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী সহ বারুইপুর মহকুমা শাসক, জয়নগর এক নং বিডিও, জয়নগর ভূমি রাজস্ব দফতর,জয়নগর পূর্ব অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক, জয়নগর থানা সহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জানান প্রধান শিক্ষক মুস্তাক আহমেদ। সম্প্রতি প্রশাসনের তরফে জায়গাটি পরিদর্শন করা হয়।প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় গ্রামবাসীরা বলেন,স্কুলের গায়ে তৃনমূল কংগ্রেসের জনসংযোগ কেন্দ্র তৈরি হয়েছিলো বটে।ওই কেন্দ্র থেকে এস আই আর ও ভোটের কাজ চলতো।তবে ৪ ঠা মের পর থেকে দলীয় ফেস্টুন খুলে নেওয়া হয় আর অফিস টি তার পর থেকে আর খোলা হয়নি।
এ ব্যাপারে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য জুবাইদা শেখের স্বামী স্থানীয় বুথ তৃণমূলসভাপতি মনিরুল শেখ বলেন,ওই জায়গাটি আমাদের পৈতৃক জায়গা, ওই জায়গা কোন বিক্রি করা হয়নি স্কুলের প্রধান শিক্ষক মিথ্যা কথা বলছেন। আমাদের ওই জায়গায় আগে মুদিখানা দোকান ছিল ও জায়গাটি আমাদের, এর সঙ্গে রাজনৈতিক কোন সম্পর্কই নেই।স্কুলের প্রধান শিক্ষক পুরো ঘটনাটাই তৈরি করাচ্ছেন। এ ব্যাপারে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মুস্তাক আহমেদ বলেন, আমি ২০২৩ সালে এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কার্যকর গ্রহণ করি স্কুলের উন্নয়নের স্বার্থে স্কুলের পরিকাঠামো বর্ধিত করার জন্য আমি স্কুলের বর্ধিত অংশটি কিনি স্কুলের নামে।
কিন্তু ওরা সেখানে তৃনমূল কংগ্রেসের কার্যালয় করে দখল রাখে।আমি এ বিষয়ে তৎকালীন শাসক তৃণমূল দলের কাছে এ ব্যাপারে বলতে গেলেও কোন সমাধান হয় না উল্টে আমাকে হুমকি দেওয়া পর্যন্ত হয়। সরকারি পালাবদলের পরে আমি মনে সাহস করে স্কুল পড়ুয়াদের স্বার্থে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাথে দেখা করি। সমস্ত ঘটনা বলি উনি আমাকে আশ্বাস দেন স্কুল অঙ্গনকে রাজনীতি মুক্ত করবেন। আর আমি চাই স্কুল অঙ্গণ রাজনীতি মুক্ত হোক আর পড়ার পরিবেশ ফিরে পাক।









