বর্ধমান :-বিশ্বজুড়ে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান তীব্র ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের জেরে জ্বালানি ও অপরিশোধিত তেলের বাজারে দেখা দিয়েছে গভীর সংকট। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব এসে পড়েছে ভারতেও। এই অবস্থায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীর কাছে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান। অতি প্রয়োজন ছাড়া ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমানোর পরামর্শও দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর বার্তার পর পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের প্রতিটি জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সরকারি স্তরে জ্বালানি অপচয় রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। সরকারি গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে প্রশাসনিক খরচ নিয়ন্ত্রণের উপরও জোর দেওয়া হয়। সেই নির্দেশ কার্যকর করতে নজিরবিহীন উদ্যোগ নিল পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও বীরভূম জেলার শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। এই বৈঠকে অংশ নিতে পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়াল, পুলিশ সুপার সহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিকরা নিজেদের পৃথক সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করে প্রশাসন ও পুলিশের জন্য দুটি বেসরকারি লাক্সারি বাসের ব্যবস্থা করেন। সেই বাসেই একসঙ্গে দুর্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তাঁরা।
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, সরকারি কাজে বিপুল সংখ্যক গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে জ্বালানি সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এটি এক ব্যতিক্রমী ও ইতিবাচক উদ্যোগ। জেলাশাসক শ্বেতা আগরওয়াল সংবাদমাধ্যমকে জানান, বর্তমান আন্তর্জাতিক সংকটের সময়ে জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করা এবং সরকারি স্তরে তেলের অপচয় কমিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়াই ছিল তাঁদের মূল উদ্দেশ্য।পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসনের এই পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে। অনেকের মতে, সরকারি ব্যবস্থাপনায় জ্বালানি সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য রাজ্যের কাছেও অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।












