পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক দম্পতি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। যদিও দুর্ঘটনায় জড়িত মালবাহী গাড়িটি আটক করেছে পুলিশ, তবে চালক এখনও পলাতক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেলে মেমারি-তারকেশ্বর রাজ্য সড়কের জামালপুর থানার অন্তর্গত সারাংপুর বটতলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। মৃতদের নাম শেখ আব্দুল জব্বার (৫৪) এবং হাসিনা বেগম শেখ (৪২)। তাঁদের বাড়ি জামালপুর থানার জারগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ মোহনপুর গ্রামে।
জানা গিয়েছে, ওই দম্পতি মোটরবাইকে করে জামালপুর থেকে মেমারির দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময় বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি মালবাহী চারচাকা গাড়ি বাইকটিকে সজোরে ধাক্কা মারে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ধাক্কার পর গাড়িটির চাকায় পিষ্ট হন ওই দম্পতি। ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় রক্তাক্ত অবস্থায় দেহ দুটি রাস্তার উপর পড়ে থাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর উদ্যোগ নিলে তার বিরোধিতা করেন এলাকাবাসী। তাঁদের অভিযোগ, জামালপুর হাসপাতাল বা থানায় না নিয়ে দূরে বর্ধমানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত এবং পুলিশি তৎপরতায় বিলম্ব, দুই নিয়েই ক্ষোভ তৈরি হয়।
পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মৃতদেহ দুটি জামালপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের আরও দাবি, দুর্ঘটনার পর ঘাতক গাড়ির চালক গাড়িটি ঘটনাস্থলে ফেলে পাশের একটি ফাঁকা মাঠের মধ্য দিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ গাড়িটিকে আটক করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি পলাতক চালকের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।











