তৃণমূল আমলে বাংলার পুলিশ বাহিনীকে সম্পূর্ণ নিজেদের তাবেদার তৈরী করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তার বিরুদ্ধেই এবার শাস্তির ব্যবস্থা করলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। আইপিএস কোটেশ্বর রাও-সহ একাধিক পুলিশ অফিসারকে সাসপেন্ডের কথা বিধানসভায় ঘোষণা করলেন তিনি। কোন কোন মামলায় কার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে, সেকথাও জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।

বাজেট অধিবেশনের শেষ দিন স্বরাষ্ট্র বিষয়ক কিছু সিদ্ধান্ত বিধানসভায় জানাতে চান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তৃণমূলের আমলে পুলিশকে অপব্যবহার করা হয়েছে। সনাতন ধর্ম যাঁরা মানেন, তাঁদের উপর অত্যাচার করা হয়েছে।” এর পরই তৃণমূল আমলে একের পর এক ঘটনার উল্লেখ করে পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।
বিধানসভায় শুভেন্দু বলেন, “উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জে ক্লাস নাইনের ছাত্রীকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। তার দেহ পুকুরে ভেসে ওঠে। পঞ্চায়েত উপপ্রধানের ছেলে অভিযুক্ত ছিল। গ্রেফতার না হওয়ায় মানুষ থানার সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান করে। পরে পুলিশ জোর করে দেহ সরিয়ে নিয়ে যায়।
রাজবংশী যুবক মৃত্যুঞ্জয় বর্মণ এসেছিলেন গ্রামে একটা অনুষ্ঠানে। জ্যাঠামশাইকে পুলিশ খোঁজ করতে আসে। না পেয়ে সরাসরি মৃত্যুঞ্জয়কে গুলি করে খুন করে। তাঁর স্ত্রীকে আমি চাকরি দিই। এর প্রাথমিক তদন্ত করেছি। এএসআই মোয়াজ্জেম হোসেনকে সাসপেন্ড করা হল। এফআইআর করা হয়েছে।” প্রাক্তন আইপিএস অফিসার পঙ্কজ দত্তর মৃত্যুর প্রসঙ্গও এদিন বিধানসভায় তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।
বলেন, “অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার পঙ্কজ দত্তকে বড়তলা থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। হেনস্থা করা হয়। সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে জিজ্ঞাসাবাদ। তাঁকে থানায় চা তো দূরের কথা, জলও খেতে দেওয়া হয়নি। আমি সেইসময় তৎকালীন বিধায়কদের নিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলাম।” এর পরই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সেইসময়ের আইও সাধন দাসকে সাসপেন্ড করা হল। ওই থানার আইসি ছিলেন সুবর্ণ দত্ত চৌধুরী। তাঁকেও সাসপেন্ড করলাম।” এছাড়াও বেশ কয়েকজন পুলিশ অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়।











