রাতের অন্ধকারের বালি কারবারীর ডেরার পৌছে ’তোলা’ চাইতে গিয়ে ভয়ংকর পরিণতির শিকার হলেন বিজেপির চার নেতা ও কর্মী। তাঁদের দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির অপর গোষ্ঠী ও বালি কারবারীর লোকজনের বিরুদ্ধে।এই ঘটনাে কেন্দ্র করে সোমবার গভীর রাতে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পূর্ব বর্ধমানের
জামালপুরের চৌবেড়িয়া এলাকায়। সেই খবর পেয়ে জামালপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে
বিজেপির জামালপুর ১ নম্বর মণ্ডলের সম্পাদক
বসন্ত পাঁজা ও দু’জন বুথ সভাপতি সহ চারজনকে
দড়ি বাঁধা অবস্থা থেকে উদ্ধার করে। এহেন ঘটনা
জামালপুরের রাজনৈতিক মহলে তুমুল শোরগোল ফেলে দেওয়ায় উল্লশিত বিরোধী শিবির ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,“চৌবেড়িয়া এলাকায় মেমারি-তারকেশ্বর রোডের একধারে
বালি মজুত করে রেখেছিলেন ঘাটের ইজারাদার সৈয়দ নিয়াজউদ্দিন।সোমবার রাতে সেখান থেকে ট্রাক্টরে বালি লোড করে তিনি নির্দিষ্ট জায়গায়
পাঠাচ্ছিলেন।রাত ১২ টা নাগাদ ওই বিজেপির জামালপুর ১ নম্বর মণ্ডলের সম্পাদক বসন্ত পাঁজা স্থানীয় পাঁচড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার দুটি বুথের সভাপতি ভাগ্য ক্ষেত্রপাল, প্রদীপ চৌধুরী ও আরো
একজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই জায়গায় পৌছে যান ।
সেখানে ইজারাদারের লোকজনের সঙ্গে বচসাস জড়িয়ে পড়ে বসন্ত পাঁজা ও তাঁর দলবল।এর পরেই ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা তোলা চাওয়ার অভিযোগে বসন্ত পাঁজা সহ চারজনকে দড়ি দিয়ে
বেঁধে রাখেন বালি মজুতের জায়গায় থাকা লোকজন।
এই বিষয়ে ইজারাদার সৈয়দ নিয়াজউদ্দিন জানান
,“জেলা ভূমি দফতরের অনুমোদিত বালির স্টক পয়েন্ট থেকে বৈধ চালান সহ তিনি ট্রাক্টরে বালি লোড করে কাজের জায়গায় পাঠাচ্ছিলেন। তবুও
বিজেপি কর্মী পরিচয় দিয়ে ৩-৪ জন সোমবার রাত ১২টা নাগাদ দিয়ে আমার কর্মীদের কাছে গিয়ে ট্র্যাক্টর আটকে দিয়ে মোটা রকম টাকা চায়।সেই কথা আমার কর্মীরা আমাকে জানালে আমি ততক্ষণাত বিষয়টি জামালপুর থানার ওসি এবং বিধায়ককে ফোনে জানাই।বিধায়কের কাছে আমি কৃতজ্ঞ যে তিনি সঙ্গে সঙ্গে মণ্ডল সভাপতি প্রধান পালকে আমার বালি মজুতের জায়গায় পাঠান।যাঁরা তোলা চাইতে এসেছিল তাঁদের প্রধানচন্দ্র পাল ও তাঁর লোকজন ধরে ফেলেন“। এর জন্য বিধায়ক ও প্রধানচন্দ্র পালের প্রতি কৃতজ্ঞতা ব্যাক্ত করেছেন ইজারাদার।
যদিও তোলা চাওয়ার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে
বসন্ত পাঁজা দাবি করেছেন, সোমবার রাতে তিনি
আঝাপুর থেকে ফিরছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন
পাঁচড়া পঞ্চায়েত এলাকার বিজেপির দুই বুথ সভাপতি ভাগ্য ক্ষেত্রপাল, প্রদীপ চৌধুরীরা ও দলের এক কর্মী অমিত পাল। বসন্ত পাঁজা বলেন,
“আঝাপুর থেকে ফেরার সময় পথে বালি বোঝাই ট্র্যাক্টর দেখে আমাদের সন্দেহ হয়। চৌবেড়িয়ায় পৌছে দেখি গভীর রাতেও বালি নেওয়ার জন্যে ট্র্যাক্টরের লাইন। বালি বৈথ ভাবে না অবৈধ ভাবে
ট্র্যাক্টরে লোড করে পাচার করা হচ্ছে তা জানতে
আমরা বালি মজুত থাকা জায়গায় যাই। সেখানে থাকা লোকজনের কাছে বলির নথি পত্র দেখতে চাইলে তারা তর্কাতর্কি শুরু করে। তারই মধ্যে প্রধানচন্দ্র পালের পাঠানো গোটা ৫০ জন লোক হঠাৎতই ওই জায়গায় জড়ো হয়ে যায়। তারা আমাদের মারধোর শুরু করে দেয় ।আমরাা
ইজারাদারের লোকজনের কাছে লক্ষাধীক টাকা
চেয়েছি বলে তারাই আমাদের অপবাদ দেওয়া শুরু করে“।
প্রধানচন্দ্র পাল বলেন ,আমরা খুবই লজ্জা লাগছে, এই কথা বলতে যে আমাদের দলেরই পদাধিকারী কয়েকজন গভীর রাতে বালি কারবারীর জায়গায়
তোলা তুলতে গিয়েছিল।আগেও তারা বালি ঘাটে তোলাবাজি করেছে বলে প্রধানচন্দ্র পাল দাবি করেছেন।এই ঘটনার কথা রাজ্য নেতৃত্বকে লিখিত ভাবে জানানো হচ্ছে বলে প্রধানচন্দ্র পাল জানিয়েছেন।“

এদিকে এই ঘটনা নিয়ে বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি স্মৃতিকণা বসুর সঙ্গে জামালপুরের বিধায়ক অরুণ হালদারের মতানৈক্য প্রকাশ্যে চলে এসেছেন। স্মৃতিকণার দাবি,“কেউ চাইছে বা কেউ টাকা নিচ্ছে , এমন কোনও প্রমাণ তো নেই ।রাতের অন্ধকারে বালি যে পাচার হচ্ছিল সেটা তো আমিও জামালপুর থানার ওসিকে জানিয়েছিলাম। তারপরেও রাতের অন্ধকারে বালি বোঝাই গাড়ি চলছিল কেন, সেটা আমি জানতে চাই।“আর বিধায়ক বলেন, “রাতে বালির গাড়ি চলবে ন,এমন কোনও সরকারি নির্দেশ আছে না কি? বিধায়কের পাল্টা প্রশ্ন তোলেন,“যাঁরা গভীর রাতে তোলা তুলতে গিয়ে ঝামেলা করছে,তাঁদের দলে রাখা হচ্ছে কেন? তাঁরা ততো দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।”











