উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়নগর : কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে রবিবার জয়নগরে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের এক নেতার বাড়ির সামনে বিক্ষোভের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার একই ধরনের অভিযোগে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটলো জয়নগর মজিলপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর চিন্ময় দে-র শ্বশুর বাড়ির সামনে। মঙ্গলবার দুপুরে জয়নগর থানার অন্তর্গত জয়নগর তিলিপাড়ায় কাউন্সিলরের শ্বশুরবাড়ির সামনে স্থানীয় একদল মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তাঁদের কারও দোকানের নির্মাণ কাজ, আবার কারও বাড়ির নির্মাণকাজ আটকে দিয়ে কাউন্সিলর মোটা অঙ্কের টাকা ‘কাটমানি’ হিসেবে নিয়েছেন। তাঁদের দাবি, পৌরসভার নিয়ম মেনে নির্মাণ কাজ করার পরেও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাঁদের কাছ থেকে এই টাকা নেওয়া হয়েছে।অভিযোগ কারীদের বক্তব্য, তৎকালীন শাসকদলের কাউন্সিলর হওয়ায় ভয়ে তাঁরা এতদিন মুখ খুলতে পারেননি। সরকার পরিবর্তনের পর তাঁরা সাহস করে জোরপূর্বক নেওয়া টাকা ফেরতের দাবিতে এদিন বিক্ষোভ দেখান।তবে এই বিক্ষোভের সময় কাউন্সিলর চিন্ময় দে বাড়িতে ছিলেন না।
তাঁর স্ত্রী সোমা দে নন্দী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের দুই মহিলা কর্মী বিক্ষোভকারী দের মুখোমুখি হন। বিক্ষোভ চলাকালীন দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। সেই সময় বিক্ষোভকারী দের পক্ষ থেকে কাউন্সিলরের স্ত্রীর পাশে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী মলি নন্দীর উপর ডিম ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি ‘চোর চোর’, ‘তোলাবাজ’ স্লোগানও দেওয়া হয়।বিক্ষোভ কারীদের মধ্যে ছিলেন সত্যনারায়ণ সরদার, সুকদেব হালদার, প্রশান্ত দে, সুনীল মণ্ডল-সহ একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা। তাঁদের দাবি, টাকা ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাউন্সিলরের স্ত্রী সোমা দে নন্দী। তাঁর দাবি, একদল মানুষকে ভুল বুঝিয়ে এদিন এই বিক্ষোভ করা হয়েছে। তিনি বলেন, তাঁর স্বামী এই ধরনের কোনও কাজ করেননি। তাঁর অভিযোগ, মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাঁর বাপের বাড়িতে এসে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে। বাড়িতে অসুস্থ মানুষ থাকার বিষয়টি জানা সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা চেঁচামেচি, হুমকি ও গালিগালাজ করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।সোমা দে নন্দীর প্রশ্ন, তাঁর স্বামী টাকা তুলেছেন—এর প্রমাণ কোথায়? তিনি জানান, এই ঘটনার বিরুদ্ধে তাঁরা আইনি পথে যাবেন এবং ঘটনার শেষ দেখে ছাড়বেন।
কাউন্সিলর চিন্ময় দে বাড়িতে না থাকায় তাঁর সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি।অন্যদিকে, বিক্ষোভ কারীদের আনা অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের কাছে কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে অভিযোগ গুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।তবে একের পর এক বিক্ষোভ ও পাল্টা অভিযোগকে কেন্দ্র করে জয়নগর মজিলপুর এলাকায় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।












