বর্ধমান ১৯ আগস্ট:- পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যের নেপথ্যে দলের নেতা-কর্মীদের নয়, বরং তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করলেন ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের বেলডাঙা শাখার প্রধান কার্তিক মহারাজ। মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমানের কালনায় বিজেপি বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম এবং হুমায়ুন কবিরের বিভিন্ন মন্তব্যই বাংলায় বিজেপির পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে।

একাধিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে এদিন কালনায় আসেন কার্তিক মহারাজ। বিজেপির জয়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজ্যজুড়ে আয়োজিত গীতাপাঠ কর্মসূচি হিন্দু সমাজে এক ধরনের চেতনা তৈরি করেছিল। পাশাপাশি কয়েকজন তৃণমূল নেতার ধারাবাহিক বিতর্কিত ও সাম্প্রদায়িক মন্তব্য বিজেপির ভোটব্যাঙ্ককে আরও শক্তিশালী করেছে বলেও তাঁর দাবি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি পুরনো বক্তব্যের উল্লেখ করে কার্তিক মহারাজ বলেন, সেই মন্তব্যের পর সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। একইভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী মন্তব্যও মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে বলে দাবি করেন তিনি।
কার্তিক মহারাজ আরও বলেন, বিজেপির বহু নেতাই এত বড় জয়ের আশা করেননি। তাঁর মতে, বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্যই শেষ পর্যন্ত বিজেপির পক্ষে জনসমর্থন বাড়িয়ে দেয়। এদিন তিনি পশ্চিমবঙ্গে ডিলিমিটেশন বা কেন্দ্র পুনর্বিন্যাসের পক্ষেও মত প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, ডিলিমিটেশন কার্যকর হলে রাজ্যে বিধানসভা আসনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে এবং তাতে ভবিষ্যতে বিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। এই উদ্যোগের কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দেন তিনি।
রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি কালনার একটি প্রস্তাবিত ১৩১ ফুট উচ্চতার শিবলিঙ্গ নির্মাণ প্রকল্পের জমিও পরিদর্শন করেন কার্তিক মহারাজ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদার এবং প্রকল্পের উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী সুব্রত পাল। শিবলিঙ্গ নির্মাণের বিভিন্ন বিষয়ে তিনি পরামর্শ দেন। সুব্রত পাল জানান, দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে তাঁরা এখন আশাবাদী।










