কৃষ্ণ সাহা, বর্ধমান:- পূর্ব বর্ধমান মানেই বাংলার “ধানের গোলা”। ধান চাষ ও উৎকৃষ্ট মানের চাল উৎপাদনের জন্য গোটা দেশেই আলাদা পরিচিতি রয়েছে এই জেলার। সেই ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করতে এবার বড় উদ্যোগ নিল বর্ধমান ডিস্ট্রিক্ট রাইস মিল অ্যাসোসিয়েশন। বুধবার সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলার নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে আয়োজন করা হয় এক বিশেষ সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার। আর সেই সভাই কার্যত পরিণত হল জেলার চাল শিল্প, কৃষক স্বার্থ এবং বন্ধ রাইস মিলগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী বৈঠকে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলা বিজেপি সভাপতি অভিজিৎ তা, কাটোয়া সাংগঠনিক জেলা সভানেত্রী, পূর্ব বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়িকা মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র, ভাতারের বিধায়ক সৌমেন কারফা, আউসগ্রাম বিধানসভার বিধায়িকা কলিতা মাঝি, পূর্ব বর্ধমান জেলা যুব সভাপতি পিন্টু শাম সহ রাইস মিল অ্যাসোসিয়েশনের একাধিক পদাধিকারী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। অনুষ্ঠানের শুরুতেই উপস্থিত বিধায়ক ও অতিথিদের সংবর্ধনা জানানো হয়। তবে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা নয়, এদিনের মঞ্চে উঠে আসে জেলার চাল শিল্পকে ঘিরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বক্তারা স্পষ্ট ভাষায় জানান, বর্ধমানের চালের ঐতিহ্য ও গুণমান কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। এই শিল্পে স্বচ্ছতা বজায় রেখে দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
সভা থেকে কৃষকদের স্বার্থকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার বার্তাও উঠে আসে। বক্তাদের বক্তব্যে পরিষ্কার, কৃষকদের পাশে নিয়েই এগোতে হবে চাল শিল্পকে। চাষীদের সুবিধা-অসুবিধা খতিয়ে দেখে পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দেন নেতৃবৃন্দ। কারণ, কৃষকরাই বর্ধমানের কৃষি অর্থনীতির মূল শক্তি। এদিনের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় বন্ধ হয়ে থাকা রাইস মিলগুলির প্রসঙ্গ। নেতৃবৃন্দ জানান, পূর্ববর্তী সরকারের সময় বিভিন্ন সমস্যা ও অনিয়মের কারণে জেলার বহু রাইস মিল বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। সেই মিলগুলিকে কীভাবে পুনরুজ্জীবিত করা যায়, নতুনভাবে চালু করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায়, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, বর্ধমানের চাল শুধু রাজ্য নয়, দেশজুড়েই সুনামের সঙ্গে পরিচিত। আগামী দিনে সেই ঐতিহ্যকে আরও উজ্জ্বল করতে এবং জেলার ধান চাষ ও চাল উৎপাদনকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে প্রশাসন, রাইস মিল মালিক ও কৃষকদের একযোগে কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সকলেই একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। রাইস মিল শিল্পকে ঘিরে নতুন সম্ভাবনা, কৃষকদের উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের বার্তায় আশাবাদী হয়ে ওঠেন উপস্থিত সকলে।












