রায়না: জন্মদিন মানেই শুধু খাওয়া-দাওয়া, আনন্দ-উৎসব আর আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সময় কাটানো নয়—সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তাও যে আনন্দের উৎসবের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, তারই অনন্য নজির সৃষ্টি করলেন পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না-২ ব্লকের ছোট বৈনান গ্রামের ভূমিপুত্র, স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত জ্যোতিষ সম্রাট ও মহাগুরু মাতৃসাধক ডাঃ মনোজ চট্টোপাধ্যায়।

তাঁর ছোট ছেলের কন্যা অদ্রিকার জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত হয়েছিল এক প্রীতিভোজ ও আনন্দ-অনুষ্ঠান। তবে সেই আয়োজনকে শুধুমাত্র উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবেশ রক্ষার এক মহৎ সামাজিক বার্তায় পরিণত করেন ডাঃ মনোজ চট্টোপাধ্যায়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত আত্মীয়-পরিজন ও অতিথিদের হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি করে গাছের চারা। তাঁদের উদ্দেশে দেওয়া হয় সবুজায়নের আহ্বান—
“সবুজ পৃথিবী মোদের পণ, তাই আত্মীয়-পরিজনদের হাতে সবুজায়ন।”
এই উদ্যোগের মাধ্যমে জন্মদিনের আনন্দকে প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতার সঙ্গে যুক্ত করার এক অভিনব প্রয়াস দেখা গেল। জানা যায়, এদিন প্রায় ১৫০০টি গাছের চারা আত্মীয়-স্বজন ও অতিথিদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। শুধু চারাগাছ বিতরণেই থেমে থাকেননি ডাঃ মনোজ চট্টোপাধ্যায়; নিজের এলাকাতেও বৃক্ষরোপণ করে সবুজায়নের বার্তাকে বাস্তব রূপ দেন তিনি।
জন্মদিনের মতো ব্যক্তিগত আনন্দের দিনকে সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করার এই প্রয়াস ইতিমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত মানুষজনও এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং প্রত্যেকে নিজেদের হাতে পাওয়া চারাগাছ রোপণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় অংশ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বৃক্ষরোপণ এবং সবুজায়নের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটে একটি শিশুর জন্মদিনকে কেন্দ্র করে এত বিপুল সংখ্যক গাছের চারা বিতরণ নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক ও অনুকরণীয় উদ্যোগ। অদ্রিকার জন্মদিন তাই শুধু একটি পরিবারের আনন্দের দিন হয়ে থাকল না, বরং হয়ে উঠল প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ও আগামী প্রজন্মের জন্য সবুজ পৃথিবী গড়ার এক সুন্দর অঙ্গীকারের দিন।
পৃথিবীর সুস্বাস্থ্য ও আগামী প্রজন্মের সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনায় ডাঃ মনোজ চট্টোপাধ্যায়ের এই সবুজ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় সামাজিক বার্তা বহন করে।









