কৃষ্ণ সাহা, পূর্ব বর্ধমান: পরিবেশ রক্ষার বার্তা নিয়ে বর্জ্য প্লাস্টিক মিশিয়ে তৈরি করা হয়েছিল নীল-সাদা রাস্তা। দাবি ছিল, সাধারণ রাস্তার তুলনায় এই রাস্তার স্থায়িত্ব দুই থেকে তিন গুণ বেশি। কিন্তু কয়েক বছর যেতে না যেতেই সেই রাস্তার নীল রং আর নেই, কোথাও কোথাও উঠে গিয়েছে পিচও। ফলে প্রশ্ন উঠছে, দেশের মধ্যে প্রথম এই বিশেষ রাস্তার এমন হাল এত দ্রুত কীভাবে হল?

পূর্ব বর্ধমানের রায়না-২ ব্লকের উচালন পঞ্চায়েতের একলক্ষী এলাকায় এই অভিনব রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল। একলক্ষী টোল প্লাজা থেকে রাউতারা ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৩২০ মিটার দীর্ঘ এই রাস্তা তৈরিতে পিচের সঙ্গে প্রায় ১০ শতাংশ বর্জ্য প্লাস্টিক মেশানো হয়। রাস্তা তৈরিতে খরচ হয়েছিল আনুমানিক ২২ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকা।
রাস্তার বিশেষত্ব হিসেবে জানানো হয়েছিল, প্লাস্টিক মিশ্রণের ফলে বৃষ্টির জল সহজে রাস্তার উপর জমে থাকবে না এবং সরাসরি রোদের প্রভাব থেকেও পিচ কিছুটা সুরক্ষিত থাকবে। পাশাপাশি বর্জ্য প্লাস্টিককে পুনর্ব্যবহার করে পরিবেশ দূষণ কমানো এবং বিশ্ব উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে বার্তা দেওয়াই ছিল এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।
তৎকালীন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারের উপস্থিতিতে রাস্তার উদ্বোধন হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। তৈরি হওয়ার পর থেকেই উচালন এলাকার এই নীল রাস্তা হয়ে উঠেছিল সাধারণ মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
তবে বর্তমানে রাস্তা দিয়ে চলাচল করা গেলেও আগের সেই নীল রঙের আর কোনও চিহ্ন নেই। রাস্তার বিভিন্ন অংশে পিচ উঠে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের প্রশ্ন, যে রাস্তার স্থায়িত্ব সাধারণ রাস্তার তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি বলে দাবি করা হয়েছিল, সেই রাস্তার কয়েক বছরের মধ্যেই এমন পরিস্থিতি হল কেন?
স্থানীয়দের দাবি, রাস্তার বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক। একইসঙ্গে এই বিশেষ প্রযুক্তিতে তৈরি রাস্তার প্রকৃত স্থায়িত্ব, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নির্মাণের গুণমান নিয়েও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তরফে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হোক।
দেশের প্রথম প্লাস্টিক মিশ্রিত নীল রাস্তা—পরিবেশবান্ধব এই উদ্যোগ কি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারল? নাকি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হারিয়ে গেল সেই নীল রাস্তার স্বপ্ন? এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।











