নিজস্ব প্রতিনিধি: নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, হড়পা বানে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই বিপর্যয়ের কবলে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের একাধিক পর্যটকও। তাঁদের মধ্যেই রয়েছেন কাঁচরাপাড়ার বাসিন্দা তথা প্রয়াত তৃণমূল নেতা মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়।স্ত্রী নিখোঁজ থাকায় দুই সন্তানকে নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়।

এই পরিস্থিতিতে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্ট করে ট্যুর অপারেটরদের ভূমিকা এবং প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন।শুভ্রাংশু রায়ের দাবি, তাঁর স্ত্রী “চলো যাই” নামের একটি ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে নেপাল সফরে গিয়েছিলেন। নেপালে পৌঁছানোর পর সফরের দায়িত্ব ছিল “সম্রাট ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস”-এর উপর এবং তিব্বত সীমান্তে দায়িত্বে ছিল “লাসা” নামে একটি চিনা ভ্রমণ সংস্থা।তাঁর অভিযোগ, কিছু সংবাদমাধ্যম ও ভ্রমণ সংস্থা পর্যটকদের জীবিত না থাকার সম্ভাবনা নিয়ে প্রচার চালালেও, এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির তরফে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সামনে আনা হয়নি।
তিনি দাবি করেছেন, “সম্রাট ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস” এবং “লাসা” সংস্থার মধ্যে শেষ কী কথোপকথন হয়েছিল, তা প্রকাশ্যে জানানো হোক। পাশাপাশি যে বাসটির ভিডিও সামনে এসেছে, সেটির সত্যতা যাচাই করতে বাসে থাকা প্রত্যেক যাত্রীর পাসপোর্ট ও পরিচয় প্রকাশেরও দাবি জানান তিনি।শুভ্রাংশু রায় ভারত সরকারের হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন। তাঁর দাবি, চীন-তিব্বত সীমান্তে ওই দিন কতজন ভারতীয় পর্যটক ইমিগ্রেশন করেছিলেন, তার একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হোক।
তাঁর আশঙ্কা, ভারতীয় পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। পাশাপাশি, আসন্ন দুর্গাপুজোর পর্যটন মরশুমে ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কায় যাতে এই ঘটনাকে ধামাচাপা না দেওয়া হয়, সে বিষয়েও সতর্ক করেছেন তিনি।বর্তমানে নিখোঁজ পর্যটকদের সন্ধানে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। পরিবারগুলির একটাই আশা—প্রিয়জনদের সম্পর্কে দ্রুত নিশ্চিত তথ্য মিলুক এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুক সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।











