জামালপুরে জাল লটারি টিকিট বিক্রি চক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। দীর্ঘদিনের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১০ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের জাল (অননুমোদিত) লটারি টিকিট উদ্ধার করেছে জামালপুর থানার পুলিশ। ঘটনায় রবীন্দ্রনাথ বাগ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ জাল লটারি টিকিট। গত ছয় মাসে জামালপুর এলাকা থেকে এটি তৃতীয় জাল লটারি বিক্রেতা গ্রেপ্তারের ঘটনা। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের খুঁজে বের করতে তদন্ত আরও জোরদার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি বৈধ লটারি সংস্থার জামালপুরের সাব-স্টকিস্ট পার্থ রায় দীর্ঘদিন ধরে জাল লটারি টিকিট বিক্রির বিরুদ্ধে সরব ছিলেন। সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন, জামালপুরের শুড়ে কালনা এলাকার বাসিন্দা রবীন্দ্রনাথ বাগ জাল লটারি টিকিট বিক্রির সঙ্গে জড়িত। এরপর তিনি জামালপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে। এরপর শনিবার দুপুরে পরিকল্পনা অনুযায়ী শুড়ে কালনায় রবীন্দ্রনাথ বাগের ব্যবসায়িক ডেরায় হানা দেয় পুলিশ। আচমকা অভিযানে পালানোর সুযোগ না পেয়ে ধরা পড়েন রবীন্দ্রনাথ। তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে ১০ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ জাল লটারি টিকিট উদ্ধার হয়।

প্রাথমিক জেরায় অভিযুক্ত বিভিন্ন এলাকায় ওই জাল টিকিট সরবরাহ ও বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। বর্ধমান দক্ষিণ মহকুমার এসডিপিও অভিষেক মণ্ডল জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয়। উদ্ধার হওয়া সমস্ত জাল লটারি টিকিট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং রবীন্দ্রনাথ বাগকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং মূল পান্ডাদের খুঁজে বের করতে ধৃতকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে রবিবার বর্ধমান আদালতে পেশ করা হবে।
অভিযোগকারী পার্থ রায় জানান, গত ছয় মাসে জামালপুর এলাকা থেকে তিনজন জাল লটারি বিক্রেতা ধরা পড়েছেন। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে সিআইডির অভিযানে দক্ষিণসুরা গ্রামের পীরতলা এলাকার লালন শা ওরফে মহম্মদ নুরুল ইসলাম গ্রেপ্তার হন। তাঁর কাছ থেকে ২৯টি ভূটান রাজ্য লটারির জাল টিকিট উদ্ধার হয়। পরে জেলা এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ (DEB) গদাই বালা নামে আরও এক ব্যক্তিকে বিপুল পরিমাণ জাল লটারি টিকিট-সহ গ্রেপ্তার করে। পার্থ রায়ের দাবি, গদাই বালা মেমারি এলাকার বাসিন্দা হলেও জামালপুর হাটে ফল বিক্রির আড়ালে জাল লটারি টিকিটের ব্যবসা চালাতেন। পুলিশের দাবি, জাল লটারি চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করে গোটা নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।











