সন্দীপ পাল, হুগলি:- হুগলি জেলার আঁটপুরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী রাধাগোবিন্দজিউ মন্দির আজও বাংলার প্রাচীন স্থাপত্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতির এক অনন্য সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। ১৭৮৬ সালে নির্মিত এই টেরাকোটা মন্দিরটি বাংলার ঐতিহ্যবাহী পোড়ামাটির শিল্পকলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসেবে পরিচিত।

মন্দিরের গায়ে সূক্ষ্ম কারুকার্যে ফুটে উঠেছে রামায়ণ, মহাভারত, কৃষ্ণলীলা এবং তৎকালীন সমাজজীবনের নানা দৃশ্য। শতাব্দী পেরিয়েও সেই শিল্পকর্ম আজও দর্শনার্থী, গবেষক ও ইতিহাসপ্রেমীদের সমানভাবে মুগ্ধ করে। তবে আঁটপুরের গুরুত্ব শুধু স্থাপত্যেই সীমাবদ্ধ নয়। রামকৃষ্ণ ভাবধারার ইতিহাসেও এই গ্রামের বিশেষ স্থান রয়েছে। ১৮৮৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর এই আঁটপুরেই স্বামী বিবেকানন্দ এবং তাঁর সঙ্গীরা সন্ন্যাসজীবনের ব্রত গ্রহণের সংকল্প করেছিলেন।
সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করে আজও এই স্থান ভক্ত ও পর্যটকদের কাছে এক পবিত্র তীর্থক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত। ঐতিহ্য, ইতিহাস ও শিল্পকলার অপূর্ব সমন্বয়ে গড়ে ওঠা আঁটপুরের রাধাগোবিন্দজিউ মন্দির সারা বছরই দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণ করে। বাংলার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে জানতে ও অনুভব করতে চাইলে হুগলির এই ঐতিহাসিক স্থান নিঃসন্দেহে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য।











