সুমন্ত দাস , কৃষকসেতু :- নিউজিল্যান্ড তথা বিশ্বক্রিকেটের কিংবদন্তি ব্যাটার এবং প্রাক্তন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সম্পূর্ণ অবসর গ্রহণ করলেন। ১২ জুন ২০২৬ তার এই তাৎক্ষণিক অবসরের ঘোষণার কথা বিশ্ব ক্রিকেটে এক আকর্ষিক ঘটনা। এর ফলে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চলমান টেস্ট সিরিজের বাকি ম্যাচগুলোতে তাকে আর খেলতে দেখা যাবে না। অবসরের ঘোষণা কারণ হিসাবে এই ৩৫ বছর বয়সী ক্রিকেটার তার এক বিবৃতিতে জানান, “আমি বেশ কিছুদিন ধরেই বিষয়টি নিয়ে ভাবছিলাম, তবে গত কয়েকদিনে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে এটাই সরে দাঁড়ানোর সঠিক সময়”।

তিনি আরও যোগ করেন যে, নিউজিল্যান্ড দলের প্রতি তার ভালোবাসা আজীবন থাকবে এবং তিনি নিজের শর্তে মাথা উঁচু করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন। এর আগে ২০২৫ সালের শেষের দিকে তিনি টি-২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছিলেন। এবার তিনি ওডিআই এবং টেস্ট সহ সব ধরনের আন্তর্জাতিক ফরম্যাট থেকেই সম্পূর্ণ অবসর নিলেন।
১৬ বছরের গৌরবময় ক্রিকেট ক্যারিয়ার ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। আধুনিক ক্রিকেটের ‘ফ্যাব ফোর’ (Fab Four)-এর অন্যতম সেরা ব্যাটার হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি।নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসে তিনি সব ফরম্যাট মিলিয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহ করেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে উইলিয়ামসনের পরিসংখ্যান: মোট আন্তর্জাতিক ম্যাচ: ৩৭৮টি। মোট রান: ১৯,৩৪৬ রান। মোট সেঞ্চুরি: ৪৮টি। টেস্ট ক্রিকেট: ১১০টি ম্যাচে ৯,৫১৫ রান (গড় ৫৪.০৬, সেঞ্চুরি ৩৩টি)ওডিআই ক্রিকেট: ১৭৫টি ম্যাচে ৭,২৫৬ রান।
অধিনায়ক হিসেবে উইলিয়ামসন শুধুমাত্র একজন বিশ্বমানের ব্যাটারই ছিলেন না, বরং একজন শান্ত ও অত্যন্ত দক্ষ অধিনায়ক হিসেবেও বিশ্ব ক্রিকেটে সমাদৃত ছিল তার। আর তার নেতৃত্বেই নিউজিল্যান্ড আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতান ২০২১ সালে। ২০১৯ আইসিসি ওডিআই বিশ্বকাপে তার নেতৃত্বেই ফাইনালে পৌঁছায় নিউজিল্যান্ড ।২০২১ সালের টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে দলকে নেতৃত্ব দেন তিনি । লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জীবনের শেষ টেস্ট ম্যাচটি খেলে (যেখানে তিনি প্রথম ইনিংসে ০ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮ রান করেন) তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন। তাকে মাঠে ও মাঠের বাইরে ভদ্র আচরণ এবং হাসিমুখের জন্য ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম সেরা ‘ভদ্রলোক’ (Gentleman) হিসেবে মনে গোটা ক্রিকেট বিশ্ব।
কেন উইলিয়ামসন যেভাবে ১৬ বছর ধরে বিশ্ব ক্রিকেটকে সমৃদ্ধ করেছেন, মাঠের ভেতরে ও বাইরে তার যে ভদ্র আচরণ—তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের পর তার ভবিষ্যতের দিনগুলো যেন শান্তিময় এবং সুখে কাটে, এটাই সব ক্রিকেটপ্রেমীর / কৃষকসেতু টিমের চাওয়া। তিনি হয়তো নিউজিল্যান্ডের জার্সিতে আন্তর্জাতিক স্তরে আর খেলবেন না, তবে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ঘরোয়া টি-২০ লিগে (যেমন আইপিএল) তাকে এখনো খেলতে দেখা যেতে পারে।












