উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়,রায়দীঘি :- প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে এবার উত্তপ্ত হয়ে উঠলো দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি। এবার দুর্নীতির টাকা ফেরত চেয়ে কাশিনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের স্বামীকে প্রকাশ্য রাস্তায় ঘিরে ধরে মারধরের অভিযোগ উঠল গ্রামবাসীদের একাংশের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়ায় গোটা এলাকায়।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি থানার অন্তর্গত কাশিনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা নিয়ে ক্ষোভ জমছিল সাধারণ মানুষের মনে।

অভিযোগ, পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে বহু উপভোক্তার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ‘কাটমানি’ বা বেআইনি কমিশন নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন কেটে গেলেও অনেকেই ঘর পাননি, আবার কেউ কেউ আংশিক টাকা পেয়ে আটকে রয়েছেন।বুধবার কাশিনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের স্বামী যখন এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে আটকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। গ্রামবাসীদের দাবি, “হয় ঘর দিতে হবে, না হলে কাটমানির নেওয়া টাকা অবিলম্বে ফেরত দিতে হবে।” এই নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র বচসা ও তর্কাতর্কি শুরু হয়। পরিস্থিতি মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং উত্তেজিত জনতা প্রধানের স্বামী বাপ্পা হালদারকে লক্ষ্য করে চড়-থাপ্পড় ও কিল ঘুষি মারে বলে অভিযোগ।আর এই ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত রায়দিঘি থানার পুলিশ বিশাল বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
পুলিশ গিয়ে আক্রান্তপ্রধানের স্বামীকে উদ্ধার করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় মোতায়েন আছে পুলিশ বাহিনী।গ্রামবাসীরা বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। মাথার ওপর ছাদ পাওয়ার আশায় ধারদেনা করে পঞ্চায়েতের লোকেদের টাকা দিয়েছিলাম। আজ দেব, কাল দেব করে ঘোরাচ্ছে। আমাদের টাকা ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।”পঞ্চায়েত প্রধান যুমনা হালদারের পক্ষ থেকে মারধরের অভিযোগ স্বীকার করে নেওয়া হলেও কাটমানি নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। এটিকে ‘রাজনৈতিক চক্রান্ত’ বলে দাবি করা হয়েছে শাসক শিবিরের তরফ থেকে। তবে স্থানীয় বিজেপি ও বিরোধী দলগুলির দাবি, “তৃণমূলের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি। কাটমানির টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে সাধারণ মানুষের এই ক্ষোভ দীর্ঘদিনের বঞ্চনার বহিঃপ্রকাশ।”রায়দিঘি থানার পুলিশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।











মমতা ব্যানার্জীর একাধিক প্রকল্প নিয়ে কটাক্ষ বিজেপি সরকারের উপ মূখ্যমন্ত্রীর