আবহাওয়া দক্ষিণবঙ্গ শিক্ষা লাইফ স্টাইল স্বাস্থ্য ভ্রমন ধর্ম কৃষি কাজ ক্রাইম

“”বঞ্চনার জলন্ত উদাহরণ।”” অবশেষে মেয়ের জন্মের শংসাপত্র পেলেন আদিবাসী যুবক।

krishna Saha

Published :

WhatsApp Channel Join Now

সাধন মন্ডল বাঁকুড়া:– সাত মাস পর অবশেষে মেয়ের জন্মের শংসাপত্র হাতে পেলেন বিশেষভাবে সক্ষম আদিবাসী যুবক রাইপুর ব্লকের ঢেঙ্গাম গ্রামের মনোজ কুমার সরেন। জন্ম থেকেই তার দুটি পা নেই। ২১ অক্টোবর ২০২৫ সালে খাতড়া মহকুমা হাসপাতালে তাদের এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয় এরপর থেকেই জন্ম শংসাপত্রের জন্য স্ত্রীকে নিয়ে বারবার হাসপাতালে গিয়েছেন কিন্তু নানা অজুহাতে তাকে বারবার ফিরিয়ে দিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলে অভিযোগ মনোজের।

 

 

মনোজবাবুর আরো অভিযোগ, গত ২৭ অক্টোবর ২০২৫ সালে নিয়মমেনে মেয়ের জন্মের শংসাপত্রের জন্য অনলাইনে আবেদন করেছিলান। তারপর থেকেই হাসপাতালের শংসাপত্র দেওয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা বিভিন্ন অজুহাতে তাকে বারবার ফিরিয়ে দিচ্ছিলেন। প্রয়োজনীয় ফর্ম পূরণ ও জমা দেওয়ার পরও তিনি শংসাপত্র পাইনি। খাতড়া থেকে তার বাড়ির দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে টোটো করে হাসপাতালে আসা-যাওয়া করতে হয়েছে কিন্তু কোন আবেদন নিবেদনে কাজ হয়নি ।

 

 

 

অবশেষে বিষয়টি নজরে আসে বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সম্পাদক তথা খাতড়ার বাসিন্দা শান্তনু সিংহের। তিনি মনোজ কুমার সরেনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নেন এবং খাতড়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার রতন শাসমলের সঙ্গে কথা বলেন। পরে হাসপাতাল থেকে নিয়ম মেনে জন্ম শংসাপত্র সংগ্রহ করেন।মঙ্গলবার রাইপুর বিধানসভার এক নম্বর মণ্ডলের সভাপতি মালতী মুর্মু সহ বিজেপি নেতৃত্বকে নিয়ে শান্তনু সিংহ মনোজ কুমার সরেনের ঢেঙ্গাআমের বাড়িতে গিয়ে তার মেয়ের জন্ম শংসাপত্র তুলে দেন। মনোজ কুমার সরেন বলেন, গত সাত মাস ধরে হাসপাতালে ঘুরেও কোনওভাবে শংসাপত্র পাচ্ছিলাম না। সমস্ত নথি জমা দেওয়ার পরও সমস্যা হচ্ছিল। অবশেষে শান্তনু সিংহ উদ্যোগ নিয়ে বাড়িতে শংসাপত্র পৌঁছে দেওয়ায় আমি খুশি। আমি শান্তনু বাবুর কাছে কৃতজ্ঞ।

 

 

 

বিজেপি নেতা শান্তনু সিংহ বলেন, বিশেষভাবে সক্ষম মনোজ কুমার সরেনের সমস্যার কথা জানতে পেরেই আমি উদ্যোগ নিই। নিয়ম মেনে হাসপাতাল থেকে শংসাপত্র সংগ্রহ করে তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষকে এভাবে হয়রানি করা উচিত নয়। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে হাসপাতালের সুপার রতন শাসমল বলেন, ওই ব্যক্তির নথিপত্রে কিছু ত্রুটি থাকায় শংসাপত্র পেতে দেরি হয়েছিল। বিষয়টি আমার নজরে আসার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যেহেতু তিনি বিশেষভাবে সক্ষম, তাই স্থানীয় বিজেপি নেতা শান্তনু সিংহ নিয়ম মেনে শংসাপত্র সংগ্রহ করে তার বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন। ভবিষ্যতে যাতে আর কারও এমন সমস্যা না হয়, সে বিষয়েও আমরা সতর্ক থাকব।

See also  জয়নগর সাব টাফিকের উদ্যোগে সচেতনতা মূলক একাধিক কার্যক্রম পালন জয়নগরে

krishna Saha

আমার নাম কৃষ্ণ কুমার সাহা, আমি ফুল টাইম সাংবাদিকতা করি।গত ৮ বছর ধরে এই পেশায় আছি