পূর্বস্থলী দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে পঞ্চায়েত পরিষেবা ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিল বিজেপি। ভোটের ফল প্রকাশের পর একাধিক পঞ্চায়েতে তালা ঝোলানোকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে সোমবার পূর্বস্থলী দক্ষিণের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক প্রাণকৃষ্ণ তপাদার নিজে উপস্থিত থেকে পূর্বস্থলী ১ ব্লকের নাদনঘাট, সমুদ্রগড় এবং নশরতপুর পঞ্চায়েতের তালা খুলে দেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরে কয়েকটি পঞ্চায়েতে স্বাভাবিক প্রশাসনিক পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছিল। ফলে সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন জরুরি পরিষেবা এবং দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজকর্মের ক্ষেত্রে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছিল।

সোমবার সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতগুলিতে গিয়ে বিধায়ক প্রাণকৃষ্ণ তপাদার পরিষেবা দ্রুত স্বাভাবিক করার বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “পঞ্চায়েত মানুষের জন্য। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে সাধারণ মানুষের পরিষেবা বন্ধ রাখা কোনওভাবেই কাম্য নয়। মানুষের স্বার্থে পঞ্চায়েতের দরজা খোলা থাকবে এবং স্বাভাবিক কাজকর্ম চালু রাখতে যা যা প্রয়োজন, তা করা হবে”।
এদিন বিধায়কের উপস্থিতিকে ঘিরে পঞ্চায়েত চত্বরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার পরিবেশ তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়ছিলেন। পঞ্চায়েত খুলে যাওয়ায় এলাকার নাগরিক পরিষেবা ফের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নবনির্বাচিত বিধায়কের এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়, বরং পূর্বস্থলী দক্ষিণের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করছে। সাধারণ মানুষের পরিষেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দিয়েই নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু করতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্ব, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।








