আবহাওয়া দক্ষিণবঙ্গ শিক্ষা লাইফ স্টাইল স্বাস্থ্য ভ্রমন ধর্ম কৃষি কাজ ক্রাইম

একাধিক বিষয়কে সামনে রেখে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন এস ইউ সি আই দলের নেতৃত্বরা বারুইপুরে

krishna Saha

Published :

WhatsApp Channel Join Now

উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর : দ:২৪ পরগনাই একসময় আধিপত্য ছিলো এস ইউ সি আই দলের।২০১১ সালে বাম জমানার অবসানের সময় ও তৃনমূল কংগ্রেসের জোট শরিক হয়ে জয়নগর আসনটি তাদের দখলে রাখে।পরে অবশ্য জোট ভেঙে যায় এবং ২০১৬ সাল থেকে তারা আর জিততে পারি নি।তবে প্রতিটা নির্বাচনে তারা তাদের দলের প্রার্থী দেয়।

আর এবারের নির্বাচনে দ:২৪ পরগনা জেলার ৩১ টি আসনের ২৬ টিতে তারা প্রার্থী দিয়েছে।আর সোমবার বারুইপুর কমলা ক্লাবে এস ইউ সি আই দলের তরফে সাংবাদিক বৈঠকে প্রার্থীদের পরিচয় তুলে ধরা হয়।এদিন তারা বলেন,এবারের নির্বাচনের বিশেষত্ব হল, ৬০ লক্ষেরও বেশি ‘বিচারাধীন’ ভোটারের ফয়সালা না করেই কমিশন নির্বাচন ঘোষণা করেছে। আমাদের জেলায় প্রায় ৫.২ লক্ষ ভোটার বিচারাধীন।

আগামী সপ্তাহ তিনেকের মধ্যে এই ফয়সালা না হলে লক্ষ লক্ষ মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন। আমরা এর তীব্র বিরোধিতা করছি এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচার সমাপ্ত করার দাবি করছি। এছাড়া যাঁদের নাম ‘ডিলিটেড’ হয়েছে তাঁরা ৬ নং ফর্ম জমা দিলে যাতে তাঁদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয় তা সুনিশ্চিত করার দাবিও তোলা হয়।এই নির্বাচনে চরম দুর্নীতিগ্রস্ত ও জনবিরোধী রাজ্য ও কেন্দ্রের দুই শাসকদল, তৃণমূল ও বিজেপির পরস্পরের বিরুদ্ধে তাল ঠোকাঠুকি করছে।

টাকার বস্তা, গুণ্ডা বাহিনী আর সংগঠিত প্রচার যন্ত্রের মাধ্যমে ঘৃণা, বিদ্বেষ আর হিংসার পারদ চড়ছে প্রতিদিন। রুটি-রুজির সংকট, মূল্যবৃদ্ধি, শিক্ষা, চিকিৎসার সমস্যায় জেরবার শান্তিপ্রিয় খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক বিভাজন, মেরুকরণ, সংঘর্ষ আর অশান্তির আতঙ্কে প্রহর গুনছে।এদিন তারা এও বলেন,বিজেপির আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) নামে এরাজ্যে গত কয়েক মাস ধরে বাস্তবে জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।

অনুপ্রবেশের ধুয়ো তুলে জনগণের কাছে নাগরিকত্বের প্রমাণ চাইছে, যা কমিশনের অধিকারের মধ্যে পড়ে না। ঘন ঘন নির্দেশিকা বদল, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র নামে অসংখ্য বৈধ নাগরিককে, বিশেষ করে সংখ্যালঘু, মহিলা, আদিবাসী ও গরিব মানুষদের নোটিশ ধরিয়েছে। পাশাপাশি বিজেপি রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারি বলে দাগিয়ে দিয়ে, নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার হুমকি দিয়ে সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ও হিংসার বাতাবরণ সৃষ্টি করছে।

See also  দেশের ৭৪ তম স্বাধীনতা দিবসে কচিকাঁচারা ও মেতে উঠলো

পুঁজিপতিদের সীমাহীন শোষণে দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা তলানিতে।লক্ষ লক্ষ কলকারখানা বন্ধ। মূল্যবৃদ্ধির চাপে মানুষের জীবন বিপর্যস্ত। সারা দেশের সাথে এরাজ্যেও আমাদের জেলায় বেকার সমস্যা সর্বকালের রেকর্ড স্পর্শ করেছে। সামান্য মজুরিতে, এমনকি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটা কাজ পাওয়ার জন্য রাজ্যে রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে যুবকরা।

শুধু বাংলাভাষায় কথা বলার জন্য বিশেষ করে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে পরিযায়ী শ্রমিকদের অশেষ লাঞ্ছনা এমনকি মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হচ্ছে। স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে সরকার বেকার যুবকদের সামান্য ভাতার উপর নির্ভরশীল করাচ্ছে এবং নানা কিসিমের প্রকল্প চালু করে সরকারি টাকায় ভোট কেনার ব্যবস্থা করছে। দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেস এদেশের পুঁজিপতি শ্রেণির সেবা করেছে।

বর্তমানে সেই ধারাবাহিকতায় দেশি বিদেশি পুঁজিপতিদের স্বার্থে কেন্দ্রের শাসক বিজেপি সরকার চরম শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী চারটি শ্রম কোড চালু করে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি, নিরাপত্তা সহ অর্জিত অধিকার কেড়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।দেশী বিদেশী একচেটিয়া পুঁজির স্বার্থ রক্ষা করতে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার কৃষক, মৎস্যজীবী, পশুপালক সহ সাধারণ মানুষের জীবন জীবিকার স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে আমেরিকার সাথে বাণিজ্য চুক্তি করেছে। এই চুক্তির দ্বারা খাদ্যশস্য, দুধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্যের বাজার দখল করে নেবে মার্কিন বহুজাতিক পুঁজি।

ফলে কৃষকরা সীমাহীন বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে। অন্যদিকে মার্কিন ও ইস্রায়েলি যুদ্ধবাজরা একতরফা ভাবে ইরান আক্রমণ করায় তেলের দাম সমেত নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশ ছোঁয়া হয়েছে। এই সুযোগে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে রান্নার গ্যাসের দাম একধাক্কায় ৬০ টাকা ও পেট্রোলের দাম লিটার পিছু ২০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং তা আরো বাড়ার সম্ভবনা।

কেন্দ্রীয় সরকার জাতীয় শিক্ষানীতি’২০  চালু করে এক দিকে শিক্ষার সর্বাত্মক বেসরকারিকরণ শুরু করেছে অন্যদিকে শিক্ষার মর্মবস্তু বৈজ্ঞানিক যুক্তিবাদকে ধ্বংস করতে উদ্যত হয়েছে। রাজ্য সরকার কার্যত সেই শিক্ষানীতিকেই চালু করছে।চূড়ান্ত দুর্নীতি, অপশাসন ও অপদার্থতায় ডুবে থাকা এরাজ্যের শাসক তৃণমূলের সঙ্গে সারা দেশের কেন্দ্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত শ্রমিক, কৃষক, সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিরোধী ফ্যাসিস্ট বিজেপির মধ্যে  চেহারা ও শক্তির তারতম্য ছাড়া মৌলিক কোনও পার্থক্য নেই।

See also  স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির

মালিক শ্রেণির পরিচালিত সংবাদ মাধ্যম তাদের সর্বাত্মক প্রচারে শাসক শ্রেণির স্বার্থ রক্ষাকারী দুই দলের মধ্যে চূড়ান্ত মেরুকরণ তৈরি করতে শুরু করেছে। ফুটন্ত তেলের কড়াই, না হয় জ্বলন্ত উনুন জনসাধারণকে এই দুই এর মধ্যে থেকেই বিকল্প বেছে নিতে কার্যত বাধ্য করা হচ্ছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের শাসক দলগুলির বিরুদ্ধে যখন শক্তিশালী বামপন্থী আন্দোলন গড়ে তোলার প্রয়োজন ছিল তখন সিপিআই (এম) সহ বামপন্থী পরিচয় দানকারী দলগুলির ভূমিকা খুবই দুঃখজনক।

কয়েকটি আসনের জন্য যে কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে সুদীর্ঘ লড়াই করে বামপন্থী আন্দোলনের মর্যাদা ও গৌরব, সেই কংগ্রেসের সঙ্গে সারা ভারতে ঐক্য এবং এরাজ্যে ঐক্য করার চেষ্টা সহ সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে ঐক্য গড়ে তুলেছে। বহু বাম মনোভাবাপন্ন মানুষ এতে মর্মাহত।

গত এক-দেড় বছরের আর জি করের নির্যাতিতার ন্যায়বিচার সহ স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলন, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, আশা কর্মীদের ঐতিহাসিক লাগাতার কর্ম বিরতি আন্দোলন, সর্বনাশা জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ বাতিল করার দেশব্যাপী আন্দোলন, স্মার্ট মিটার বিরোধী বিদ্যুৎ আন্দোলন, দেশব্যাপী কৃষক আন্দোলন, জয়নগর থেকে ভায়া রায়দিঘী হয়ে পাথর প্রতিমা পর্যন্ত রেল লাইন স্থাপন, মৎস্য বন্দর ও অনুসারী শিল্প গড়ে তোলা,সুন্দরবন এলাকায় স্থায়ী ও কংক্রীটের নদী বাঁধ নির্মান, সুন্দরবন অঞ্চলের কৃষি, নদী বনজীবী মানুষদের জীবন ও জীবিকার স্থায়ী সমাধান করতে কৃষি ও নদী ভিত্তিক শিল্প স্থাপন করা ইত্যাদির দাবিতে অসংখ্য আন্দোলন আমাদের দল সারা দেশে, রাজ্যে, জেলায় এবং আঞ্চলিক স্তরে গড়ে তুলছে।

এই আন্দোলনের অঙ্গ হিসেবেই আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি। গণ-আন্দোলনের শক্তি হিসেবে আমাদের দলকে সমর্থন করে জনজীবনের জ্বলন্ত সমস্যাগুলি সমাধানে সংগ্রামকে শক্তিশালী করার আবেদন জানানো হয় ।এদিন সাংবাদিক বৈঠকে যে বিষয় গুলো তুলে ধরা হয় সে গুলো হল-সুন্দরবনে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে পরিযান বন্ধ করতে হবে। পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা, ন্যায্য মজুরি ও নিরাপত্তা আইনী ভাবে সুনিশ্চিত করতে হবে।

See also  ইন্ডিয়া দখলের ডাক দিল ব্লক সভাপতি ফাগুন

দ্বীপাঞ্চল সহ সকল বিধানসভার অভ্যন্তরে গ্রামীন ও ব্লক স্তরের হাসপাতালগুলিকে পূর্ণাঙ্গ (২৪ ঘণ্টার) হাসপাতালে রূপান্তর করতে হবে। কংক্রিটের নদী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। জেলার অভ্যন্তরে কোন স্কুল বন্ধ করা চলবে না।খরা,বন্যায়,ঝড়ের প্রাক্কালে সরকারি পরিসেবার অপ্রতুলতায় ও অবহেলায় মৃত্যু বন্ধ করে মানুষের বাঁচার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

মধু সংগ্রহকারীদের ৪৫ দিন থেকে বনে মধূ সংগ্রহতে ১৫ দিন যেতে পারবে ফরমান জারি করা চলিবে না। জয়নগরে বাইপাস চালু ও মূলদিয়া মোড়-ব্যানার্জী পাড়া থেকে জয়নগর উত্তরপাড়া পর্যন্ত উড়ালপুল চালু ,কুলপি রোডে বাস চালু করতে হবে। জয়নগর থেকে পাথর প্রতিমা ভায়া রায়দিঘী রেল লাইন এবং ক্যানিং থেকে গদখালি রেল লাইন সম্প্রসারনের কাজ করতে হবে।

জেলার সর্বত্র বেহাল রাস্তা, ব্রীজ, খাল সংস্কার ও পরিস্রুত পর্যাপ্ত পানীয় জল সরবরাহ করতে হবে।এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তরুণ কান্তি নস্কর (রাজ্য সম্পাদক মণ্ডলী সদস্য) জয়কৃষ্ণ হালদার (রাজ্য কমিটি সদস্য), গোপাল সাহু (রাজ্য কমিটি সদস্য), বাদল সরদার (রাজ্য কমিটি সদস্য), নিরঞ্জন নস্কর (রাজ্য কমিটি সদস্য ও প্রার্থীবৃন্দ)।

krishna Saha

আমার নাম কৃষ্ণ কুমার সাহা, আমি ফুল টাইম সাংবাদিকতা করি।গত ৮ বছর ধরে এই পেশায় আছি