নিজস্ব সংবাদদাতাঃ শারিরীক না হলেও নার্ভ জনিত কারণে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ছাত্র আরজু জুনেদ মাধ্যমিক পরীক্ষার গোন্ডি পার করলো। বর্ধমান শহরের পুলিশ লাইন ৫ নং ইছলাবাদ এলাকার বাসিন্দা আরজু বর্ধমান শহরের অদূরে সাধনপুর বিবেকানন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাইটার নিয়ে পরীক্ষা দেয় সে। সফলতা মেলায় তার বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকারা তাকে শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদ জানিয়েছেন।

আরজু মাত্র ৬ মাস বয়স থেকেই নার্ভের অসুখে আক্রান্ত। চিকিৎসা চলছে আজও। তবে হাঁটা চলা করতে পারে। কিন্তু আর পাঁচটা ছেলের মতো সে স্বাভাবিক নয়। তা সত্ত্বেও বিবেকানন্দ স্কুলের তৎকালীন হেডমাস্টার রতন সাঁই এর উদ্যোগে তাকে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি করার পর বিদ্যালয়ের অনান্য শিক্ষক শিক্ষিকাদের সাহায্যে এক একটি ক্লাস পার করে মাধ্যমিকের দোড়গড়ায় পৌঁছে যায়। বাবা আমিনুর রহমান পেশায় সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। সবটুকু সময় দিতে পারেননি ছেলের জন্য। এক্ষেত্রে ছাত্রের মা জেসমিনা রহমান এবং দাদু জহুর আলম তাকে সব রকমের সহযোগিতা করে।
মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাইটার হিসাবে তাকে সহযোগিতা করে ওই বিদ্যালয়েই অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী মেঘনা খাতুন। শুক্রবার ফলাফল বের হবার দেখা যায় আরজু জুনেদ ৪০ শতাংশ নাম্বার পেয়ে মাধ্যমিক পাশ করেছে। ছাত্রের মা জানিয়েছেন, এবার তাকে উচ্চ মাধ্যমিকে যে কোন বিষয়ে ভর্তি করে দেওয়া হবে। সাধনপুর বিবেকানন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক বিবেকানন্দ স্বর জানান, ভর্তি হবার পর সব ধরনের সাহায্য করা হবে। যাতে ওই ছাত্র ভবিষ্যতে কিছু করে উঠতে পারে।









