নবনির্বাচিত অঞ্চল সভাপতি ঘোষণার ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই অপসারণ—এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকেরা। রবিবার বর্ধমান–আরামবাগ রোডের মিরেপোতা এলাকায় পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান সেহারা অঞ্চলের তৃণমূল কর্মীরা।
উল্লেখ্য, গত ১৫ জানুয়ারি সাংবাদিক বৈঠক করে পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের সভাপতি তালিকা প্রকাশ করা হয়।
সেই তালিকায় সেহারা অঞ্চলের সভাপতি হিসেবে অখিল বাগের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই কোনও ব্যাখ্যা না দিয়েই হঠাৎ ওই তালিকা থেকে অখিল বাগের নাম বাদ দিয়ে পুনরায় সমীর সাঁইকে অঞ্চল সভাপতি হিসেবে বহাল রাখা হয়। এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই দলীয় কর্মীদের মধ্যে প্রবল ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষুব্ধ কর্মীদের অভিযোগ, সমীর সাঁই দীর্ঘদিন ধরেই সংগঠনের কোনও কার্যকর ভূমিকা পালন করেননি। তাঁর আমলে সিপিআইএম একের পর এক মিছিল করলেও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও জোরালো কর্মসূচি নেওয়া হয়নি। অথচ তৃণমূলের পুরোনো ও পরীক্ষিত কর্মী অখিল বাগকে কোনও কারণ না দেখিয়েই সরিয়ে দেওয়া হল।
কর্মীদের আরও অভিযোগ, অখিল বাগ তফসিলি জাতিভুক্ত (SC) হওয়াতেই তাঁকে পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত দলীয় বৈষম্যের স্পষ্ট নজির বলেও দাবি বিক্ষোভকারীদের। “দল কি এখন কর্মীর যোগ্যতার বদলে জাত দেখেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে”?—এই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
পথ অবরোধের জেরে বর্ধমান–আরামবাগ রোডে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। দীর্ঘক্ষণ অবরোধ চলায় সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।
এই ঘটনায় দলের অন্দরে ক্ষোভ ও বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কর্মীদের একাংশের সাফ বক্তব্য, অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে। এখন দেখার, নেতৃত্ব এই ক্ষোভকে কতটা গুরুত্ব দেয় এবং আদৌ কোনও জবাবদিহি করে কি না।








