ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ (এসআইআর) সংক্রান্ত চাপ নয়, বরং লক্ষ লক্ষ টাকার ঋণের জালে জড়িয়েই কি ঘর ছেড়েছেন কাটোয়ার বিএলও? নিখোঁজ অমিতকুমার মণ্ডলকে ঘিরে এবার চাঞ্চল্যকর দাবি করল নির্বাচন কমিশন। পুলিশের তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে কমিশনের দাবি, ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে বড়সড় লোকসানের মুখে পড়েছিলেন তিনি। সেই ঋণের বোঝা সামলাতে না পেরেই তাঁর এই অন্তর্ধান বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার থেকে নিখোঁজ রয়েছেন কাটোয়া বিধানসভার ২৩ নম্বর বুথের বিএলও তথা প্রাথমিক শিক্ষক অমিতকুমার মণ্ডল। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও গুরুত্বপূর্ণ বিএলও সংক্রান্ত নথিপত্র উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই এলাকায় চরম উদ্বেগ ও চাঞ্চল্য ছড়ায়।
পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছিল, অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন অমিত। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতেও শুরু হয় তীব্র চাপানউতোর। শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ ছিল, নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত চাপই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, তৃণমূলের অনৈতিক রাজনৈতিক চাপের কারণেই তিনি নিখোঁজ হয়েছেন।
তবে পুলিশের তদন্তে উঠে আসা তথ্য সেই রাজনৈতিক দাবিদাওয়াকে কার্যত নস্যাৎ করেছে। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, অমিতকুমার মণ্ডলের উপর বিপুল আর্থিক দায়বদ্ধতা ছিল। শেয়ার বাজারে বড় অঙ্কের ক্ষতির ধাক্কা তিনি মানসিকভাবে সামলাতে পারেননি বলেই অনুমান তদন্তকারীদের। সেই কারণেই তিনি আত্মগোপনে গিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন পুলিশকে দ্রুত নিখোঁজ বিএলও-কে খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছে। শনিবার থেকে রাজ্যে জনশুনানির কাজ শুরু হওয়ার ঠিক আগেই এমন একটি ঘটনায় প্রশাসনিক স্তরে অস্বস্তি আরও বেড়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।








