আবহাওয়া দক্ষিণবঙ্গ শিক্ষা লাইফ স্টাইল স্বাস্থ্য ভ্রমন ধর্ম কৃষি কাজ ক্রাইম

পুলিশ–প্রশাসনের চোখে ধুলো! মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ উপেক্ষা করে দামোদরে রাতভর বালি লুঠ—সিভিক ভলেন্টিয়ারের মদতের অভিযোগে তোলপাড় পূর্ব বর্ধমান

krishna Saha

Published :

WhatsApp Channel Join Now

খোদ মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ—বৈধ ইজারাদার ছাড়া নদ–নদী থেকে এক কণা বালিও তোলা যাবে না। বর্ষাকালীন বালি উত্তোলনের নির্দেশিকা প্রত্যাহারের পর চলতি বছরে পূর্ব বর্ধমান জেলার নদনদীতে বিক্ষিপ্ত দু’একটি ঘটনা ছাড়া বড়সড় অভিযোগ সামনে না এলেও, বাস্তব চিত্র যে ভিন্ন—তা এবার প্রকাশ্যে।

অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ ও প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এক শ্রেণির বালি মাফিয়া রাতের অন্ধকারে দেদার লুঠ চালাচ্ছে। আরও গুরুতর অভিযোগ—এই বেআইনি কারবারে কয়েকজন সিভিক ভলেন্টিয়ারের জড়িত থাকা ও মদত দেওয়া।

পূর্ব বর্ধমানের গলসি থানা, গলসি–২ ব্লকের গোহগ্রাম অঞ্চলের অধীনস্থ দাঁদপুর, তাহেরপুর, ডুমুর, শিকারপুর, সোন্দা, ভাঙ্গাবাঁধ, ভাষাপুর—এই সব গ্রাম সংলগ্ন দামোদর নদে প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় বেপরোয়া বালি লুট। স্থানীয়দের দাবি, রাতভর কয়েকশো ট্রাক্টরে নদী থেকে বালি তুলে এনে গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন রাস্তার ধারে মজুত করা হয়। এরপর দশ ও বারো চাকার লরি বোঝাই করে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে দিব্যি বিক্রি চলছে।

সকাল ন’টা পর্যন্ত থামছে না এই লুঠ। মাঝেমধ্যে পুলিশের টহল ভ্যান ঘুরলেও, লোকেশন পার্টির আগাম খবর ও স্থানীয় সিভিকদের তৎপরতায় নাকি কোনও অনিয়মই পুলিশের চোখে পড়ে না—এমনই অভিযোগ গ্রামবাসীদের একাংশের।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়—যে নদীঘাটগুলিতে কোনও বৈধ ইজারা নেই, ঠিক সেখান থেকেই প্রতিদিন নির্বিঘ্নে বালি পাচার চলছে বলে অভিযোগ। প্রশ্ন উঠছে—মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ কি তবে কাগজেই আটকে? অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এই বেআইনি বালি রাজ আরও বেপরোয়া হবে, বলছেন স্থানীয়রা।

See also  নথির অভাবে নাগরিকত্ব অনিশ্চয়তা, কাটোয়ার অগ্রদ্বীপে আতঙ্কে ২৫ পরিবার

krishna Saha

আমার নাম কৃষ্ণ কুমার সাহা, আমি ফুল টাইম সাংবাদিকতা করি।গত ৮ বছর ধরে এই পেশায় আছি