উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়,কুলতলি :- আবারও সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণ।পর পর তিনদিনে তিন জন বাঘে আক্রান্ত হলেন।এদের মধ্যে দুজন মৃত ও একজন গুরুতর আহত কুলতলির গোপাল নস্কর। এই ঘটনার জেরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছেে। আহত গোপাল নস্করকে চিকিৎসা চলছে কলকাতার পিজি হাসপাতালে। জানা গিয়েছে, হত ৫ দিন আগে চার জন সাথীকে নিয়ে কাঁকড়া ধরার জন্য সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে গিয়েছিল।আর পিছন থেকে তার উপর বাঘ আক্রমণ করে।

সেই সময় কাছে থাকা সঙ্গীরা জানতে পেরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে বাঘ সেখান থেকেপালিয়ে গেলে গোপালকে নিয়ে সঙ্গীরা ফিরে আসে।এবং গোপালকে জয়নগর কুলতলি গ্রামীন হাসপাতালে মঙ্গলবার ভর্তি করলে অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় তাকে কলকাতার পিজি হাসপাতালের ট্রমা কেয়ারে ভর্তি করা হয়।সুন্দরবনের নদী খাঁড়িতে মাছ, কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘের হামলায় এভাবে বেঘোরে প্রাণ যাচ্ছে ধীবরদের। কুলতলিতেই সোমবারই বাঘের আক্রমণে মৃত গোষ্ঠবিহারী জানার দেহ নিয়ে আসা হয়।রবিবার থেকে গোপাল চক্রবর্তী নিখোঁজ রয়েছেন এখনও। জলে জঙ্গলে ঘেরা সুন্দরবন,বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাবে পেটের টানে সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে গিয়ে মাঝে মধ্যেই বাঘের আক্রমণের মুখে পড়ছে মৎস্যজীবিরা।
দীর্ঘ দিন ধরে সুন্দরবনের এই সব মৎস্যজীবিদের অধিকার ফিরিয়ে আনতে লড়াই করে চলেছে এপিডিআর নামে একটি মানবাধিকার সংগঠন।আর সেই সংগঠনের সহ সভাপতি রঞ্জিত শূর মঙ্গলবার বলেন,২০২৬ সালের এখনো পর্যন্ত বাঘের আক্রমনে আক্রান্ত দশ জন মৎস্যজীবি।এদের মধ্যে মৃত ৮ জন ও গুরুতর আহত দুজন।আমাদের দাবি,চিকিৎসার সমস্ত খরচ সরকারের বহন করতে হবে।চিকিৎসা চলা ও পরবর্তী সময়ে সুস্থ হওয়া পর্যন্ত সংসার চালানোর খরচ বহন করতে হবে।আর্থিক অনটনের জন্য যাতে বাচ্চাদের পড়াশোনার বন্ধ না হয় তা প্রশাসনের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।ভিকটিমের পরিবারের হাতে দ্রুত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ৪ লক্ষ টাকা তুলে দিতে হবে।নাহলে আমাদের লড়াই চলবে।তবে এ প্রসঙ্গে জেলা বন দফতর সূএে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায় নি।








